ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

অবশেষে সেই শিশু মাতার দায়িত্ব নিল প্রশাসন

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৩৭, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯
অবশেষে সেই শিশু মাতার দায়িত্ব নিল প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

যে বয়সে একজন শিশুর মায়ের আঁচলের স্নেহে থাকার কথা, সেই বয়সে মা হয়ে চরম বিপাকে পড়েছে বরগুনার বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামের এক শিশু।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশ হওয়ার পর টনক নড়ে প্রশাসনের। অবশেষে সেই শিশু মাতার দায়িত্ব নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বেতাগীর ইউএনও মো. রাজিব হোসেন জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদ্য জন্ম নেয়া শিশু ও তার মাকে চিকিৎসাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বেতাগী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমকর্তা ডা. তেন মং জানান, মা ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থা ভালো। তবে যদি ওদের সঠিক যত্ন নেয়া না হয়, তাহলে দুজনেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে।

বরগুনার বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামের ওই শিশুকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন একই গ্রামের কালাম বেপারীর ছোট ছেলে আক্কাস বেপারী। ওই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা জানায় সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। 

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে আক্কাসের পরিবারে ওই শিশুকে বিয়ে করার জন্য চাপ আসে। সমাজের প্রভাবশালী মহল থেকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার জন্য নির্যাতিত ওই শিশুর পরিবারেও প্রস্তাব আসে।

ওই শিশুর পরিবার এতে অসম্মতি জানিয়ে ন্যায় বিচারের জন্য বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করে। খবর পেয়ে আক্কাস ওই শিশুকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার (২৮ আগস্ট) রাতে নির্যাতিত ওই শিশু একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়।

নির্যাতিতা ওই শিশু বলেন, আমি যে আমার পোলার একটা নাম রাখবো সেই সৌভাগ্যও আমার হয়নি। যেদিন আমি প্রসব বেদনায় ছটফট করেছিলাম সেদিনও আমাকে মারার জন্য আমার ঘরের দরজা কুপিয়ে গেছেন আক্কাসের বাবা কালাম বেপারী। একটি প্রভাবশালী মহলের দাপটে তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চলছে।

আক্কাসের বাবা কালাম বলেন, আমার সম্মানহানি করার জন্য এলাকার একটি কুচক্রী মহল এসব কথা রটিয়েছে। তাদের মিথ্যা মামলার কারণে আমার ছেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

নবজাতকটির বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ওই নবজাতকের বাবা আমার ছেলে না। বেশ কিছুদিন ওই মেয়ে তার বোনের বাড়িতে ছিল এবং তার বোন জামাইয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল তার। হতে পারে সন্তানটি তার বোন জামাইয়ের।

হোসনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান খান বলেন, এ ঘটনার পর থেকেই আক্কাস বেপারীকে ওই মেয়েটিকে বিয়ে করার জন্য বলেছি। কিন্তু মামলা প্রক্রিয়াধীন থাকার কারণে কোনো ধরনের মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!