ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

ধান কাটার নতুন যন্ত্র বাজারে আসবে কবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:৫১, ২ জানুয়ারি ২০২২
ধান কাটার নতুন যন্ত্র বাজারে আসবে কবে
ধান কাটার যন্ত্র ব্রি হোল ফিড কম্বাইন হারভেস্টার (ছবি: সংগৃহীত)

দেশের জমিতে ব্যবহারের সবচেয়ে উপযোগী ও সুলভ মূল্যের ধান কাটার যন্ত্র ‘ব্রি হোল ফিড কম্বাইন হারভেস্টার’ উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা। যার দাম পড়বে বিদেশ থেকে আমদানি করা মেশিনের চেয়ে অর্ধেক কম, আবার ফসল নষ্টের পরিমাণও কম।   

বিজ্ঞানীরা বলছেন, হারভেস্টারটির দাম আমদানি করা হারভেস্টারের তুলনায় অর্ধেক, কিন্তু প্রচলিত যন্ত্রের চাইতে ধান কাটার সক্ষমতা বেশি। আর এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এই হারভেস্টার ছোট জমির ধান কাটতে পারদর্শী।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধান কাটার যন্ত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, বিশেষ করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দেওয়া সাধারণ ছুটির সময় হাওরে ধান কাটতে শ্রমিকের ব্যাপক সংকট দেখা দিলে এর বিক্রি ও চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বাংলাদেশে হারভেস্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হচ্ছে, সাধারণত জমিতে বিভক্তিকরণ আইল দেয়া থাকে বলে জমির আকার ছোট হয়, এর ফলে বাজারে প্রচলিত ধান কাটার যন্ত্র ব্যবহার করে ধান কাটা যায় না। এছাড়া আমদানি করা হারভেস্টারের দাম অনেক বেশি, যা প্রান্তিক কৃষকের নাগালের বাইরে।

আরো পড়ুন: লাল ঘাসে রঙিন জমি

গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, যন্ত্র উদ্ভাবনের সময় তারা মোট ১৯টি বৈশিষ্ট্যের দিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন। 

বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- এটি ছোট জমির ধান কাটতে বেশ কার্যকর, ঘণ্টায় মেশিনটি তিন থেকে চার বিঘা জমির ধান কাটতে পারে, জ্বালানি খরচ হয় ঘণ্টায় চার লিটার, দাম হবে ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা, আমদানি করা যন্ত্রের দাম ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা, হারভেস্টিং লস অর্থাৎ ধান কাটার সময় শস্য নষ্ট হয় তার পরিমাণ শতকরা এক ভাগের কম, কাদায় চলবে এই যন্ত্র, ফোর সিলিন্ডার মেশিন বলে শব্দ অনেক কম করে।

প্রকল্প পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, চুয়াডাঙার নুরনগরে পরীক্ষা করা হয়েছে হারভেস্টারটি। মাঠে পরীক্ষা করে ভালো ফল পেয়েছেন তারা। হারভেস্টারটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করা গেলে দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এটি ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এ যন্ত্রে দেশের কৃষিক্ষেত্রে সময়, খরচ এবং শ্রম তিনই বাঁচাবে। তবে ম্যাস প্রোডাকশনের জন্য সরকার অথবা উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। কারণ এ ধরণের যন্ত্র বাণিজ্যিক উৎপাদন করতে হলে যে ওয়ার্কশপ লাগবে তা আমাদের দেশে নেই।

আরো পড়ুন: পেরিলার প্রথম চাষেই সাফল্যের আশা

তিনি আরো বলেন, সরকারি পর্যায়ে ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি বৈঠকও তারা করেছেন। এ ধরণের একটি প্লান্ট তৈরির খরচ প্রায় ১০০ কোটি টাকার মত। বাংলাদেশে মূলত চীন এবং জাপান থেকে হারভেস্টার আমদানি হয়। এই দুটি দেশের বিভিন্ন কোম্পানির পণ্যের একেক রকম দাম হয়।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, জাপানি যন্ত্রটির দাম তুলনামূলক বেশি, ২৭ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার মধ্যে এর দাম ওঠানামা করে। অন্যদিকে, চীন থেকে আমদানি করা হারভেস্টারের দাম কিছুটা কম। বাংলাদেশে কৃষি উদ্যোক্তা কিংবা কোন কৃষক সমিতির মাধ্যমে হারভেস্টার কেনার ক্ষেত্রে মোট দামের অর্ধেক ভর্তুকি দেয় সরকার। হাওর এলাকায় সে ভর্তুকির পরিমাণ ৭০ শতাংশ।

গত ৩০ ডিসেম্বর ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ব্রি হোল ফিড কম্বাইন হারভেস্টার’ উদ্বোধন করে।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএডি
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!