ঢাকা,  সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

মণে মণে রফতানি হচ্ছে এখানকার আলু

রনি আকন্দ, কালাই ( জয়পুরহাট)
প্রকাশিত: ১০:৩০, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০
মণে মণে রফতানি হচ্ছে এখানকার আলু
ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

প্রাচীনকাল থেকেই বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে আলু উৎপাদনের জন্য পরিচিত জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়েছে। বীজ, সার ও কীটনাশক ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং রোগ-বালাই কম হওয়াসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। 

যার ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আলু জেলা ও উপজেলায় সরবরাহসহ বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। এখানকার আলুর বাজারে বেশ চাহিদা রয়েছে। তাই ভালো দাম পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন স্থানীয় চাষিরা।

কালাই উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে ও সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, কালাই পৌরসভাসহ উপজেলার মাত্রাই, উদয়পুর, পুনট, জিন্দারপুর ও আহম্মেদাবাদ ইউপিতে চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২শ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উফশী জাতের আলু চাষে হয়েছে ১০ হাজার ৬শ ৫০ হেক্টর এবং স্থানীয় পাকড়ী জাতের আলু চাষে হয়েছে ৩শ ৫০ হেক্টর জমিতে। 

উফশী জাতের আলুর মধ্যে রয়েছে মিউজিকা, ডায়মন্ড, এস্টোরিক্স, কার্ডিনাল, রোজেটা, ক্যারেজ। আর স্থানীয় পাকড়ী জাতের আলুর মধ্যে রয়েছে তেল-পাকড়ী, পাহাড়ী-পাকড়ী, বট-পাকড়ী ও ফাটা-পাকড়ী। 

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মিউজিকা, ডায়মন্ড, এস্টোরিক্স, কার্ডিনাল ও রোজেটা আলু চাষ হয়েছে। সেই সঙ্গে আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আলু ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে।

আলু চাষিরা জানায়, প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার মণ আলু দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাসহ বিদেশে পাঠানোর জন্য উপজেলার ১০ থেকে ১৫টি স্থান থেকে কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনছে ব্যবসায়ীরা। এর ফলে বাজারে আলুর চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। আর আলুর ভালো দাম পাওয়ায় স্থানীয় আলু চাষিদের মুখেও হাসি ফুটেছে।

উপজেলার আপলাপাড়া গ্রামের আলু চাষি আব্দুল কাদের বলেন, আট বিঘা জমিতে এস্টোরিক্স ও কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করেছি। বিঘা প্রতি আলুর উৎপাদনের খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় আলু পেয়েছি প্রায় ১শ মণ। বিদেশি এক কোম্পানির এজেন্টের কাছে ওই সব আলু বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়ে বর্তমান আলুর বাজার দরে বিঘা প্রতি লাভ হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা।

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের আলু চাষি রাজ্জাক বলেন, মালেশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানির এজেন্টের কাছে মণ প্রতি ৫শ ৫০ টাকার দরে দুই বিঘা জমির মিউজিকা জাতের আলু বিক্রি করেছি। এবার আলুর দাম ভালো পাওয়া গেছে।

উপজেলার নান্দাইলদীঘি গ্রামের মালেশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানির আলু কেনার এজেন্ট মো. বাশেদ ও রফিকুল বলেন, মালেশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন ১৬ টাকা কেজি দরে প্রায় ৪শ মণ বিভিন্ন জাতের আলু কিনতে হচ্ছে। আর এভাবে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত আলু কিনতে হবে।

কালাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বীজ, সার ও কীটনাশক ওষুধ সরবরাহসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই উপজেলাতে এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় বাজারেও আলুর দাম ভালো। এছাড়া এখানকার আলু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। এর ফলে আগামীতে আরো বেশি আলু চাষ হবে বলে তিনি জানান।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!