গরুর কোন অংশের মাংস দিয়ে কী পদ রাঁধবেন, জেনে নিন
সারাবছর মাংস খাওয়া হলেও কোরবানি ঈদে খাওয়া হয় একটু বেশিই। অনেকে এই সময় স্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করে একেবারে কব্জি ডুবিয়ে খান মাংস। গরু বা খাসির নানা পদে ভরে থাকে ডাইনিং টেবিল।
তবে আগে থেকে জেনে রাখুন, গরু বা খাসির কোন অংশের মাংস দিয়ে কী পদ রান্না করা যায়। এতে ঈদের কোন দিন কী রান্না করবেন তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে পারবেন। তাহলে জেনে নিন গরু এবং খাসির কোন অংশের মাংসে কী পদ রান্না করবেন-
রানের মাংস
যদি বিফ বার্গার বা টিকিয়া তৈরি করতে চান তবে এক্ষেত্রে রানের মাংস সবচেয়ে উত্তম। এছাড়াও কোরমা, কোপ্তা, বিরিয়ানি তৈরি করতে রানের মাংস আলাদা করে রাখতে পারেন।
পেটের দুই পাশের মাংস
কাবাব খেতে চাইলে আগে থেকেই গরুর পেটের দুই পাশের মাংস আলাদা করে রাখুন। শিক কাবাব, শামি কাবাব, হাঁড়ি কাবাব করার জন্য পেটের দুই পাশের পাতলা মাংস উত্তম। এছাড়াও এই মাংস দিয়ে কিমা তৈরি করা যায়।
সিনার মাংস
তেহারি, কোরমা বা বিরিয়ানি রান্নার জন্য সিনার মাংস নিলে ভালো হবে। হালকা চর্বি যুক্ত কুড়মুড়ে হাড়ের জন্য এই অংশের মাংস প্রায় সবার কাছেই খুব প্রিয়।
হাঁটু থেকে পায়ের অংশের মাংস
গরুর মাংস দিয়ে মজাদার নেহারি রান্না করতে চাইলে হাঁটু থেকে পায়ের অংশের মাংস নিতে হবে। গরুর মাংস খেতে খেতে যখন বিরক্ত হয়ে উঠবেন তখন ইচ্ছা করলে এই মাংস দিয়ে নেহারি তৈরি করতে পারেন।
মগজ
গরুর মাথার মগজ ভুনা করে খেতে কিন্তু খুবই মজা। মাংসের সঙ্গে মগজ রান্না না করে, আলাদা করে ভুনা করে খেলে বেশি ভালো লাগবে। রুটি বা পরোটার সঙ্গে মগজ ভুনা দিয়ে সকালের নাস্তা হলে মন্দ হয় না।
কলিজা
মাংসের সঙ্গে এক বারে কলিজা রান্না না করে। যদি আলাদা করে কলিজা ভুনা করা হয় তবে ভালো হয়। কলিজা ভুনা করতে হলে অবশ্যই কলিজা আলাদা করে নিতে হবে।
জিহ্বা
জিহ্বা পরিষ্কার করা একটু ঝামেলা। তবে গরম পানিতে সিদ্ধ করলে ওপরের চামড়া খুব সহজে তোলা যায়। এরপর ছোট ছোট টুকরা করে ভুনা বা কাবাব তৈরি করা যায়।
আরো কিছু দরকারি টিপস:
> মাংস তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হতে পেঁপে দিতে পারেন।
> মাংস তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারেন সামান্য চিনি।
> মাংসের স্বাদ মাংস কষানোর ওপর নির্ভর করে। মাংস যত বেশি কষানো হবে তত তার স্বাদ বেশি হবে।