ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]

সুপ্রভাত বাসের চালক ও ড্রাইভারকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

বাসচাপায় মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১:২৬, ১৭ আগস্ট ২০২২
সুপ্রভাত বাসের চালক ও ড্রাইভারকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
ফাইল ফটো

রাজধানীর রামপুরা ডিআইটি রোডে সুপ্রভাত বাসের ধাক্কায় নিহত পিন্টু শেখের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও অন্যান্য ওয়ারিশদের ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার ঢাকার ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ.এইচ. এম. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া এ  রায় ঘোষণা করেন। 

এতে বলা হয়েছে, সুপ্রভাত বাসের মালিক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও বাসচালক সোহাগ মিয়াকে ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।  আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে। ৬০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে নিহত পিন্টু শেখের স্ত্রী-কন্যাসহ তার ওয়ারিশগণ আদালতের মাধ্যমে টাকা আদায় করার সব অধিকারী হবেন। 

এছাড়া নিহত পিন্টু শেখের স্ত্রী মৌসুমি আক্তার, কন্যা মানহা আক্তার মাইসাসহ ইসলামি শরিয়াহ আইনে যারা বৈধ ওয়ারিশ, তারা আইন অনুসারে হারাহারিভাবে উক্ত টাকা বাসমালিক ও চালকের কাছ থেকে পাওয়ার অধিকারী। 

এ বিষয়ে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বিমল সমাদ্দার সাংবাদিকদের জানান, ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী আদালত এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী নিম্ন আদালতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দেশে এটিই প্রথম। 

মামলা সূত্রে জানা গেছে,  ২০১৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রামপুরা ডিআইটি রোডের মালিবাগ চৌধুরীপাড়া সিএনজি পাম্পের কাছে উত্তরা ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে সুপ্রভাত বাসটি সাইকেল আরোহী পিন্টু শেখকে পেছন দিক থেকে চাপা দেয়। এ সময় তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রমনা থানায় দুর্ঘটনাজনিত হত্যা মামলা করা হয়। 

অন্যদিকে, পিন্টু শেখের বোন নীলিমা বেগম ও তার ওয়ারিশগণ ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এর ১২৮ ধারার সঙ্গে ১২৭ ধারা অনুযায়ী এ মামলা দায়ের করে ২ কোটি ৭৭ লাখ ৪৮ হাজার ২৫৬ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। 

এ ক্ষতিপূরণ মামলায় বাসটির আমদানিকারক র‍্যাংগস লিমিটেড বাসের মালিককে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডকেও বিবাদী করা হয়। আদালত গাড়ির মালিক এবং গাড়ির চালক ছাড়া অন্য সবাইকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!