ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আইন-আদালত ]

নায়ক মান্নার মৃত্যুর ১৪ বছর: স্থগিতাদেশে আটকে আছে বিচার 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:৫৪, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
নায়ক মান্নার মৃত্যুর ১৪ বছর: স্থগিতাদেশে আটকে আছে বিচার 
এস এম আসলাম তালুকদার মান্না- ফাইল ছবি

১৪ বছর আগে এই দিনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অ্যাকশন হিরো এস এম আসলাম তালুকদার মান্না মারা যান। তার মৃত্যুর পর চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে বিচার বিভাগীয় তদন্তে এ অভিযোগের সত্যতা মেলে। সে ঘটনায় ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন  করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে আসামিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। যে কারণে মামলার বিচারকাজ থমকে গেছে।

আসামিরা হলেন- ডা. মো. এনায়েত হোসেন শেখ, ডা. জহির উদ্দিন মাহমুদ ইলিয়াস, ডা. মোমেনুজ্জামান, ডা. ফাতেমা, ডা. মাইনুল ইসলাম মজুমদার ও ডা. খন্দকার মাহবুব হোসাইন।

২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বুকে ব্যথা অনুভব করায় ভোর রাত ৪টায় মান্না ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু চিকিৎসকরা হাসপাতালে আসেন সকাল ৯টায়। চিকিৎসা দেরিতে শুরু হওয়ায় ‘অ্যাকিউট মায়োকারডিয়াল ইনফ্রাকশনে’ আক্রন্ত হন। পরে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যুর করে মান্নার স্ত্রী শেলী কাদেরের ভাই রেজা কাদের ঢাকা সিএমএম আদালতে মামলা করেন।

আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। ঐ বছরের  ১৩ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান সিদ্দিক বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

২০০৯ সালের ১৮ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন তৎকালীন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক ফিরোজ আলম। এরপর ১, ২ ও ৩ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ধার্য থাকা দিনেই সংশ্লিষ্ট বিচারক বদলি হয়ে যান। থেমে যায় সাক্ষ্য গ্রহণ। এরপর আসামিরা মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর জাহাঙ্গীর হোসেন (দুলাল) বলেন, এটি একটি আলোচিত মামলা। কিন্তু মামলার কার্যক্রম হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন। এ জন্য দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির বিচার হচ্ছে না। স্টে অর্ডার বাতিলের জন্য মান্নার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে বলে শুনেছি। উচ্চ আদালত স্টে অর্ডার তুলে নিলে মামলার বিচার আমাদের কোর্টে শুরু হবে। আমরা প্রস্তুত আছি। অপেক্ষায় আছি বিচারকাজ শুরুর। যদি স্থগিত আদেশ তুলে দেয় আমাদের কাছে মামলা আসলে সাক্ষী হাজির করে যত দ্রুত সম্ভব মামলার বিচার শেষ করব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!