সামিয়া রহমানের করা মামলা সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ
এলেক্স মার্টিন নামে এক বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক সামিয়া রহমানের করা মামলাটি সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল বুধবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন সামিয়া রহমান। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বেন্স সহকারী শামীম আল মামুন বিষয়টি ডেইলি বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল বুধবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেন সামিয়া রহমান। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে নথি পর্যালোচনা করে আদেশ পরে দেবেন বলে জানান। এ বিষয়ে আজ আদেশ দেয়া হলো।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মামলার বাদিনী সামিয়া রহমানের বিরুদ্ধে প্লেজারিজমের অভিযোগ আনা হয় যার অভিযোগ তদন্ত নম্বর -৩৩২৯৬। অভিযোগের বিষয়বস্তু ছিল যে, 'আপনি এবং ক্রিমিনোলজি বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান লিখিত' এ নিউ ডাইমেনশন অফ কলোনিজম এন্ড পপ কালচার: এ কেস স্টাডি অফ দা কালচারাল ইম্পেরিয়ালিজম (A new dimension of Colonialism and pop culture: A case study of the cultural imperialism) প্রবন্ধে প্রকাশিত The subject and power by michel foucault রচিত প্রবন্ধের কিছু অংশ প্লেজারিজম করায় সেই জার্নালের এডমিনিস্ট্রেট অ্যাসিস্ট্যান্ট আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পরিপ্রেক্ষিতে রিপোর্ট প্রদানের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।' উক্ত তদন্ত কমিটি শিকাগো জার্নালের বিগত ২০১৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ইমেইলের ভিত্তিতে বাদিনীকে বিশ্ববিদ্যালয় হতে সহযোগী অধ্যাপক হতে ডিমোশন দিয়ে সহকারী অধ্যাপক দিয়ে যে শাস্তির সুপারিশ করেছে সেই ইমেইলটি আদতে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভুয়া, বানোয়াট এবং সৃজিত। যেহেতু ২০১৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর শিকাগো জার্নাল থেকে অফিশিয়ালি বাদিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কোন ই-মেইল কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-মেইল আইডিকে পাঠানো হয়নি। অ্যালেক্স মার্টিন বলে শিকাগো জার্নালে কখনোই কেউ কাজ করেনি। এমনকি শিকাগো প্রেসেও অ্যালেক্স বলে কোনো ব্যক্তি নাই।
মামলার অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, বাদিনী সামিয়া রহমান তার ফেসবুক আইডির মাধ্যমে শিকাগো জার্নালের অফিসিয়াল এডিটর ক্রেইজ ওয়াকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্তের তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চান। ক্রেইজ ওয়াকার জানিয়েছেন যে, এলেক্স মার্টিন বলে কেউ কখনো শিকাগো জার্নালে ছিল না, কেউ নেই এবং [email protected] নামে তাদের কোন ইমেইল আইডি নাই। এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেই মেইলের কোনো সফট কপি সামিয়া রহমানকে দেয়নি। মিথ্যা ও বানোয়াট মেইল আইডির ওপর ভিত্তি করেই সামিয়া রহমানকে ‘চৌর্যবৃত্তির’ মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
বিবাদীরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রতারণা করে তার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধ করেছে। তিনি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে গ্রহণ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।