ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

ওষুধ ছাড়াই এইডস মুক্ত হলেন নারী, চিকিৎসকরাও হতবাক!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:০৭, ২৮ আগস্ট ২০২০
ওষুধ ছাড়াই এইডস মুক্ত হলেন নারী, চিকিৎসকরাও হতবাক!
ছবি: লরেন উইলেবার্গ 

প্রাণঘাতী এক ব্যাধি হলো এইডস। এইচআইভি (এইডস) এমন এক ধরনের মরণ ভাইরাস, যা ক্রমশ রোগীকে মৃত্যুর পথে নিয়ে যায়। করোনার মতো এইচআইভিও এক আরএনএ ভাইরাস, যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ক্ষণে ক্ষণে তার রূপ বদল করে। সেই ভাইরাসই কি-না বিনা ওষুধে নির্মূল হল।

ঘটনাটি ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৯২ সালে লরেন উইলেবার্গ নামক এই নারী এইডসে আক্রান্ত হন। বর্তমানে তার বয়স ৬৬ বছর। তবে কোনো রকম ওষুধ ছাড়াই এইচআইভি মুক্ত হয়েছেন তিনি। বুধবার গবেষকরা এমনটাই জানিয়েছেনে এই নারী সুস্থতা প্রসঙ্গে।

আরো জানা গেছে, এখন ৬৩ জনের ওপর গবেষণা চলছে যাদের দেহে এইচআইভি সংক্রমণ অনেকটাই রুখেছে তাদের দেহ। পরীক্ষা থেকে এটা স্পষ্ট যে, এসব এইচআইভি রোগীদের দেহে নিজের থেকেই এইচআইভি ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা গড়ে উঠেছে, যা গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ন্যাচার জার্নালে এই তথ্যটি প্রকাশিতও হয়েছে। এটি কীভাবে মানবদেহ কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে তার কিছু বিবরণ দেয়া হয়েছে জার্নালের প্রতিবেদনে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জেনেটিক্সের-এর উন্নতি এবং প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলেই এই পরীক্ষার ফলাফল লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির মধ্য দিয়ে গিয়েছেন কয়েক বছর পর থেকে তাদের দেহেও এই ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা দেখা দিয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এইডস বিশেষজ্ঞ ড. স্টিভ ডিকস বলেন, এর ফলে এটা বুঝতে পারা যাচ্ছে যে এই চিকিৎসার মাধ্যমে এইচআইভিকে হারানো সম্ভব। বিজ্ঞানীদের মত আরো বেশ কয়েকটি পরীক্ষার পর হয়তো বিষয়টি পরিষ্কার হবে। কারণ একজন কিংবা দু’জন দিয়ে ফলাফল বিচার করা যায় না। বিশ্বে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই সব রোগীর দেহে জিনোম বিশ্লেষণ করে যখন দেখা গেছে তখন ‘ব্লকড অ্যান্ড লকড’ সিকোয়েন্স দেখা গিয়েছে জিনের কয়েকটি অঞ্চলে। অর্থাৎ মানবদেহ নিজের থেকেই এইচআইভি প্রতিরোধ করতে পরিবর্তন করেছে জিনের কাঠামোতে। 

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!