ঢাকা,  বুধবার   ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

প্রিন্স হ্যারি-মেগানের বই নিয়ে মর্গানের তুলোধুনো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
প্রকাশিত: ২১:৪৯, ২৭ জুলাই ২০২০
প্রিন্স হ্যারি-মেগানের বই নিয়ে মর্গানের তুলোধুনো
পিয়ারস মর্গান (বামে), হ্যারি-মেগান (মাঝে), হ্যারি-মেগানের লেখা বই (ডানে)

ব্রিটিশ রাজকীয় পরিবার ত্যাগকারী প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেলের রচিত বই ‘ফাইন্ডিং ফ্রিডম’কে তুলোধুনো করেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ারস মর্গান। এ বই দ্য ডিউক ও ডাচেসকে ভীষণ তিক্ততা, অবিশ্বাস্যরূপে স্ব-অন্ধকারাচ্ছন্ন, গভীরভাবে বিভ্রান্ত, শোচনীয়ভাবে স্ব বধির ও হাসির পাত্র হিসেবে প্রকাশ করেছে।

পিয়ারস মর্গান ডেইলি মেইলে লিখেন, প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগানের রাজকীয় জীবন এবং ব্রিটেন ত্যাগ নিয়ে বাস্তব ধর্মী দাবি করা জীবনী পড়ে দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে শব্দ করে হেসেছেন।

এ মুহুর্তে যেকোনো ব্যক্তির সামাজিক জীবন থেকে দ্য ডিউক ও ডাচেস বেশি কৃপণতা, রাগ বা নেতিবাচকতায় ডুবে রয়েছেন যা বইটির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। তারা নিজেদের ঈশ্বরের পৃথিবীতে সবচেয়ে কষ্টকর মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করতে চেষ্টা করেছেন। নিয়মিত ভিকটিম হিসেবে দাবি করেছেন।

বইটি প্রকাশ হওয়ার এক সপ্তাহ পার হয়েছে। তবে কোনো হইচই হয়নি। এমনকি কোনো লোকের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি। পুরো পৃথিবী যখন শত বছরের সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সঙ্গে লড়াই করছে, ঠিক তখনই অভিযোগ করেছেন হ্যারি ও মেগান। নিজেদের ভীষণ তিক্ত, অবিশ্বাস্যরূপে স্ব-অন্ধকারাচ্ছন্ন, গভীরভাবে বিভ্রান্ত, শোচনীয়ভাবে স্ব বধির ও হাসির পাত্র হিসেবে প্রকাশ করেছেন তারা।

পিয়ারস মর্গান আরো লিখেন, বইটির ঘোষণার পর ‘ফাইন্ডিং ফ্রিডম’ শিরোনামটি আমার মাথায় নাড়া দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন মেন্ডেলার স্বাধীনতা নিয়ে রচিত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আত্মজীবনীমূলক বই ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ থেকে হ্যারি ও মেগানের বই ‘ফাইন্ডিং ফ্রিডম’-এর নামকরণ করা হয়েছে।

মর্গান কটাক্ষ করে লিখেন, মেন্ডেলার সঙ্গে দ্য সাসেক্স’র তুলনা একটি দুর্বল চিত্তের বিনোদন ছাড়া কিছুই নয়। মেন্ডেলা ২৭ বছরের মধ্যে ১৮ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার আদর্শিক নেতা। যার বসবাস ছিল রবেন দ্বীপের সাত থেকে আট ফুটের কনক্রিটের ঘরে। সেখানে ছিল ঘুমানোর জন্য খড়ের মাদুরি। একটি লোহার ঝুড়িতে টয়লেট ব্যবহার করতেন তিন। বিছানায় ছিল ছোট কম্বল। সারা বছরে একজন তার সঙ্গে দেখা করতে পারতেন। এমনকি তিনি তার মা ও ছেলে শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারেননি।
  
প্রতিদিন সশস্ত্র রক্ষীবাহিনীদের পর্যবেক্ষণে মেন্ডেলাকে চুনাপাথর অনুসন্ধান করতে হয়েছে। পাথর ভাঙতে হয়েছে। যখন তিনি জেল থেকে বের হলেন তখনই স্বাধীনতার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এ ক্ষেত্রে হ্যারি ও মেগানের বন্দীদশা তো কিছুই না।

বিলাসবহুল বিয়ের পর জাকজমকভাবে বরণ করা হয়েছিল তাদের। উভয়েই কর প্রদানের রাজকীয় বাড়িতে বাস করেছিলেন। চাকর-বাকরও পেয়েছিলেন। প্রাইভেট বিমান দিয়ে যাতায়াত করেছিলেন। ভক্তদের সঙ্গে আনন্দও করতে পেরেছিলেন। এক সঙ্গে মুভিও দেখেছেন। তাদের জন্য হয়তো এগুলো যথেষ্ট ছিল না।

প্রাসাদের নিয়ম ও রাজকীয় পরিবারের অনুভূতিকে অসম্মান হিসেবে বিবেচিত করেন। এতে রাজপরিবারকে কটাক্ষ করতে সুযোগ পেয়েছিল মিডিয়া। আর এটি হ্যারি ও মেগানের ভণ্ডামি আচরণের ফল। অকল্পনীয় বিলাসবহুল সুবিধা ও স্বর্ণালী জীবনকে কারাগার হিসেবে চিহ্নিত করেছে তারা।

সূত্র- ডেইলি মেইল।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!