ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ ফিচার ]

হেমিংওয়ের আত্মহত্যা রহস্য

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:০৪, ২১ অক্টোবর ২০২২
হেমিংওয়ের আত্মহত্যা রহস্য
ছবি: অন্তর্জাল

আমেরিকান কথাশিল্পী আর্নেস্ট মিলার হেমিংওয়ে মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তার লেখা গল্প-উপন্যাসে প্রাধান্য পেয়েছে অপরাজেয় সংগ্রামের কথা বলেছেন। ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ উপন্যাসে তিনি বলেছিলেন, হেরে যাওয়ার জন্য মানুষের জন্ম হয়নি। মানুষ লড়াই করতে করতে ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু কখনোই পরাজয়কে মেনে নেবে না।

যুদ্ধ দেখেছেন, যুদ্ধে হেরে-যাওয়া জিতে যাওয়া দেখেছেন হেমিংওয়ে। প্রথম মহাযুদ্ধে তিনি অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কাজ করেছেন।
সে সময় ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষের ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। নিজেও আহত হয়েছেন একাধিকবার। কিন্তু কখনো মৃত্যু কিংবা আত্মহত্যার কথা ভাবেননি। তার ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ উপন্যাসের দুঃসাহসী বৃদ্ধ জেলে সান্তিয়াগোকেও দেখি ১৮ ফুট লম্বা এক সুবিশাল সামুদ্রিক মাছ শিকার করবে বলে মাঝসমুদ্রে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছিল। ব্যক্তিগত জীবনে হেমিংওয়ে নিজেও ছিলেন লড়াকু মানুষ।  

ব্যক্তিগত জীবনবোধ, দর্শন লিখে গেছেন হেমিংওয়ে। অর্জন করেছেন পুলিৎজার পুরস্কার (১৯৫৩) এবং নোবেল পুরস্কার।  এরপরে সারা বিশ্বে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। মানবপ্রেমিক হেমিংওয়ে নোবেল পুরস্কারের সমস্ত অর্থ দান করে দিয়েছিলেন কিউবার একটি দাতব্য সংস্থায়। এই কিউবাতে বসেই ১৯৫১ সালে তিনি ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ উপন্যাসটির পাণ্ডুলিপি রচনা করেছিলেন। পৃথিবীর প্রায় সব ভাষায় অনুবাদ করা হয় তার বই।

আফ্রিকায় পরপর দুটি বিমান দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন হেমিংওয়ে। এর ফলে অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা তার মনের অবসাদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। খ্যাতির শীর্ষে থাকা এই মানুষটিই একসময় আক্রান্ত হয়েছিলেন চরম বিষাদে। অবসাদে জর্জরিত হয়ে একদিন তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।  যিনি আজীবন মানুষকে কঠিন সংগ্রামের মন্ত্র শিখিয়েছেন, সেই তিনিই কি না শেষ পর্যন্ত বেছে নিলেন স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ! 

১৯৬১ সালে ৬২ বছর বয়সে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন কিংবদন্তি লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। অথচ তার বই, তার সাহিত্য কখনোই মানুষের পরাজয়ের কথা স্বীকার করেনি। 
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!