বাঘ সম্পর্কে আট অজানা তথ্য
বাঘ বড় বিড়াল জাতের অন্তর্ভুক্ত একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী। বাঘকে ইংরেজীতে টাইগার বলে। ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন বাঘ এর প্রাচীন বাস। রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে বাংলাদেশের জাতীয় পশু বলা হয়। রয়েল বেঙ্গল টাইগার সুন্দরবনের প্রধান সৌন্দর্য। বেঙ্গল টাইগারের মতো সুন্দর ও ক্ষীপ্রগতির বাঘ পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। হলদে ডোরাকাট রং এই বাঘকে অন্যসব প্রজাতির বাঘ থেকে করেছে আলাদা ও অনন্য।
ভারত-বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকার বাসিন্দা রয়েল বেঙ্গল টাইগার। পঞ্চাশের দশকেও বর্তমান মধুপুর এবং ঢাকার গাজীপুর এলাকায় এই বাঘ দেখা যেত। মধুপুরে সর্বশেষ দেখা গেছে ১৯৬২ এবং গাজীপুরে ১৯৬৬ সালে।
বাঘ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ২৯ জুলাইকে আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বাঘ দিবসটি ২০১০ সালে রাশিয়ায় সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রথম পালিত হয়। বাঘের ইংরেজি নাম Tiger এবং বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris.
টাইগার নামটি গ্রিক শব্দ ‘টাইগ্রিস' থেকে এসেছে যার উৎপত্তি ফার্সি বা ইরানি শব্দ থেকে। শব্দটির দ্বারা একটি তীরকে বোঝায়, যা তার লক্ষ্যটির দিকে অটল ফোকাস নিয়ে গতি করে। বাঘ নিয়ে আমাদের কৌতূহলের শেষ নেই। তাই চলুন জেনে নেয়া যাক বাঘ সম্পর্কে আট অজানা তথ্য-
বিড়ালের বড় প্রজাতি
বিড়াল প্রজাতির মধ্যে আকারে সবছেয়ে বড় প্রজাতি হলো বাঘ প্রজাতি। এক একটি বাঘের ওজন ৩০০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর বাঁচে ২৬ বছর পর্যন্ত।
শিকারি বাঘ
বলা হয়ে থাকে শিকারের জন্যই এদের জন্ম হয়েছে। এদের থাবায় ধারালো তীক্ষ্ণ নখ রয়েছে, আছে শক্তিশালী পা এবং বিশাল বিশাল দাঁত আর চোয়াল। বাঘ এক বসায় ৪০ কেজি পর্যন্ত মাংস খেতে পারে।
তপস্বী বাঘ
বাঘ সাধারণত নিশাচর এবং তার শিকারিকে নিঃশব্দে অনুসরণ করে। আর নিঃশব্দেই আক্রমণ করে। পুরুষ বাঘ নিঃসঙ্গভাবে চলাফেরা করে, বাঘিনী এবং শাবকদের ছাড়াই। বিশাল জায়গায় ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে তারা।
পানি পছন্দ
বাড়ির বিড়ালটি নিঃসন্দেহে একফোঁটা পানি দেখলে তা এড়িয়ে যেতে চায়, তবে বাঘের ক্ষেত্রে বিষয়টা একেবারে আলাদা। এরা বেশ ভালো সাঁতারু এবং সাঁতরানোর সময় শিকার ধরতেও বেশ পটু৷
কমে আসছে সংখ্যা
এক শতাব্দী আগেও তুরস্ক থেকে চীন পর্যন্ত বিস্তৃত বনাঞ্চলে প্রায় এক লাখ বাঘ ঘুরে বেড়াত। কিন্তু এখন তাদের সংখ্যা খুবই কমে গেছে। নয় প্রজাতির বাঘের মধ্যে তিনটিই এখন বিলুপ্তি। এই ছবিতে জাভা বাঘকে দেখা যাচ্ছে, যা ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
কেন হুমকির মুখে বাঘ
আবাসস্থল হারানো একটি প্রধান কারণ। নগরায়ণ এবং কৃষিজমির উপর মানুষের নির্ভরশীলতা বাড়ার কারণে বাঘেরা তাদের আবাস হারিয়েছে ৯৩ ভাগ।
জলবায়ু পরিবর্তন
বাংলাদেশের বিশাল একটা অংশ জুড়ে রয়েছে সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ অরণ্য। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ছে। ফলে বাঘের আবাসস্থল হারিয়ে যাচ্ছে।
বাঘ বাঁচাও
কনজারভেশন গ্রুপ ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। এই গ্রুপপটি বাঘ রক্ষায় নান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।