কীভাবে হয় বাঘ শুমারি?
একজন মানুষের আঙুলের ছাপের সঙ্গে আরেকজনের ছাপের যেমন মিল নেই, তেমনি একটি বাঘের ডোরাকাটার সঙ্গে আরেকটি বাঘের ডোরাকাটার মিল থাকে না। ডোরাকাটা দাগের ভিত্তিতে ক্যামেরায় তোলা ছবি সংগ্রহের পর কম্পিউটারের সফটওয়্যারে প্রতিটি বাঘের আলাদা করা হয়ে থাকে।
সুন্দরবনে বাঘের সঠিক সংখ্যা কত তা জানতে ক্যামেরা ট্রাপ বা ক্যামেরা পদ্ধতিতে বাঘ গণনা জরিপ কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৩ সালে। ছবি তোলার এ পদ্ধতির জন্য সুন্দরবনের কিছু জায়গা নমুনা (স্যাম্পল) হিসেবে নেয়া হয়। তারপর ব্লকে ভাগ করা হয়। ব্লকের বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক ক্যামেরা বসানো হয়। এসব ক্যামেরার সামনে দিয়ে বাঘ বা কোনো প্রাণী চলাফেরা করলেই ছবি উঠে। স্থাপন করা ক্যামেরাগুলো সারাক্ষণই চালু থাকে এবং লেন্সের সামনে কোনো নড়াচড়া ধরা পড়লেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি তোলে। প্রতি দশ মিনিটে একটি স্থিরচিত্র ও দশ সেকেন্ডের ভিডিও ধারণ করতে পারে ক্যামেরাগুলো।
ছবি ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায় সুন্দরবনে ঠিক কতগুলো বাঘ রয়েছে। আর এ কাজে বাংলাদেশ ও ভারতের বাঘ বিশেষজ্ঞরা একত্রে কাজ করে থাকেন। প্রায় ১২ ফুটের মতো বৃত্তাকার জায়গায় গাছপালা কেটে পরিষ্কার করে দু’পাশে দুইটি খুঁটি পোতা হয়। সেই খুঁটিতে বাঘের আনুমানিক উচ্চতায় ক্যামেরা বসানো হয়ে থাকে। বৃত্তের চারপাশে জাল দিয়ে ঘেরা থাকে। বৃত্তটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যে, কোনো বাঘ বা কোনো প্রাণী প্রবেশ করলেই সেটি ক্যামেরার সামনে পড়বে।
এছাড়া ক্যামেরার সামনে বাঘকে আকষর্ণ করতে বৃত্তের মতো খালিকটা জায়গা পরিষ্কার করে একটি পাত্রে পানি রাখা হয়। আর একটি কাঠির মাথায় কাপড়ে বেঁধে রাখা হয় স্টিংক বম্বের দ্রবণ। সেখান থেকে অনেকটা পচা মাংসের মতো গন্ধ ছড়ায়। এছাড়া রাতের বেলায় ক্যামেরাতে ব্যবহার হয় ব্ল্যাক ফ্ল্যাশ। তবে খালি চোখে এ ফ্ল্যাশের আলো দেখা যায় না। পাঁচদিন পর পর এসব ক্যামেরায় থাকা মেমোরি কার্ড থেকে ছবি সংগ্রহ করবেন বনকর্মীরা। এ সময় ব্যাটারি পাল্টানো বা ক্যামেরা মেরামতের দরকার হলে মেরামত করা হয়।