ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ ফিচার ]

সাহারার ধূলিঝড়েই টিকে রয়েছে আমাজন

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৩০, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
সাহারার ধূলিঝড়েই টিকে রয়েছে আমাজন
ছবি: সাহারার ধূলিঝড় টিকিয়ে রেখেছে আমাজকে

সাহারা বিশ্বের বৃহত্তম গরম মরুভূমি এবং অ্যান্টার্কটিকা ও আর্কটিকের পরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মরুভূমি। অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া লক্ষ্য করা যায়। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০ সে.মি-র বেশি হয় না। 

দিনে প্রচণ্ড গরম ও রাতে ঠাণ্ডা (প্রায় ৪ ডিগ্রী সে.)। কখনো কখনো পাহাড়ের চূড়ায় বরফও জমে থাকতে দেখা যায়। শীতকাল থেকে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রী সে. থেকে ৪৩ ডিগ্রী সে. পর্যন্ত ওঠানামা করে। 

একসময় সাহারার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ছিলো লোনা পানির হ্রদ। নীলনদের পশ্চিমে এই লেকের ব্যাপ্তি ছিলো প্রায় ৪২ হাজার বর্গমাইল জুড়ে। তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী, এই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় আড়াই লাখ বছর আগে। যা প্রায় সাত হাজার বছর আগে সাহারার বুক থেকে বিদায় নিয়েছে।

এখনো এই অঞ্চলের বালিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ফসিল পাওয়া যায়। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, এই স্রোতের অবশিষ্ট শুভ্র লবণের স্তুপ। একসময় যা ছিল জীবনে পরিপূর্ণ তা এখন সেটা বিরাণভূমি ছাড়া আর কিছুই না। 

ধূলিঝড়মৃত লেকের উপর দিয়ে বয়ে চলা বাতাস খনিজ লবণসমৃদ্ধ সাহারান ধূলিকণা শূন্যে ভাসায়। এই ধুলোবালি প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকায় পাড়ি জমায়। যেখানে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ রেইন ফরেস্টের বসতি।

এই আমাজন রেইনফরেস্টে এখানে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টিপাত হয়। বেড়ে ওঠার জন্য বৃক্ষের পানি ছাড়াও অনেক উপাদানের প্রয়োজন হয়। খনিজ সমৃদ্ধ সাহারান ধূলিকণা বৃষ্টির পানির ফোঁটায় ফোঁটায় এই জঙ্গলে পতিত হয়। 

এই জঙ্গলের মাটিকে উর্বরতা দান করে। ধূলিকণাগুলো এই বিশাল জঙ্গলের খাদ্যের যোগান দিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বিচিত্র এই বাস্তুসংস্থান টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত সাহায্য করছে পরিবেশবিদরা। 

আমাজন টিকে আছে ধূলিঝড়ের কারণেইবিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ টন ধুলা-বালি আফ্রিকা থেকে আমাজনে পাড়ি জমায়। এ যেন এক মহাদেশের পক্ষ থেকে অন্য মহাদেশের জন্য অনন্য উপহার। 

পুরো পৃথিবীর বাস্তুসংস্থান পরস্পর নির্ভরশীল এবং ঘনিষ্ঠ ভাবে সম্পর্কযুক্ত। পৃথিবীর একটি অঞ্চলের পরিবর্তন প্রভাব ফেলতে পারে বিশ্বজুড়ে। বদলে দিতে পারে মানুষ এবং সমস্ত জীব জগতের সার্বিক জীবনব্যবস্থাকে।

এ ধরনের ধূলিঝড়ের কারণে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময় অপরূপ দৃশ্য সৃষ্টি হলেও এর বিপদও কম নয়। এর প্রভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এরই মধ্যে লেসার অ্যান্টাইলস দ্বীপের আবহাওয়া অস্বাস্থ্যকর ঘোষণা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ধূলিঝড় দীর্ঘস্থায়ী হলে জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!