ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ ফিচার ]

কুমিরের পূর্বপুরুষরা হেঁটেছিল দুই পায়ে! 

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৩৮, ১ সেপ্টেম্বর ২০২০
কুমিরের পূর্বপুরুষরা হেঁটেছিল দুই পায়ে! 
ছবি: প্রতীকী

প্রাচীনকালের অনেক অজানা তথ্যই এখন গবেষকদের গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের গবেষণায় বের হয়ে আসছে একের পর এক চমকপ্রদ তথ্য। যা আমরা বিংশ শতাব্দীতে এসে হয়তো চিন্তাও করতে পারি না। বিভিন্ন সময় পৃথিবীর নানা জায়গায় গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন প্রাণীর ফসিল। যা জানান দিচ্ছে কোটি কোটি বছর আগের সেসব প্রাণী কেমন ছিল।    

সম্প্রতি এক গবেষণা বলছে, প্রায় ১০৬ মিলিয়ন বছর আগে কুমির হাঁটত দুই পায়ে। দক্ষিণ কোরিয়ায় পাওয়া কুমিরের পায়ের চিহ্ন থেকেই এই ধারণা করছেন গবেষকরা। তাদের দাবি, এই পায়ের চিহ্ন এখনকার নয়। প্রায় ১০৬ মিলিয়ন বছর আগেকার এটি। তখন এক ধরণের কুমিরের বাস ছিল এই অঞ্চলে। যেগুলো চার পায়ে নয়, হাঁটত দুই পায়। এদের আকারও ছিল এখনকার কুমিরের তুলনায় কয়েকগুণ বড়। এদের পায়ের পাতা ছিল দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত লম্বা।

আরো পড়ুন: সৌন্দর্যে মুগ্ধ করা বিরল প্রজাতির এক বাদুড়  

দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি লেকের তীরে কদমাক্ত মাটিতে প্রমাণগুলো রয়েছে যা ১১০ থেকে ১২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে ক্রিটাসিয়াস যুগের প্রথম দিকের। ক্রিটাসিয়াস যুগ হলো জুরাসিক যুগ ও টারসিয়ারী যুগের মধ্যবর্তী যুগ, ভূ গঠন পর্যায়ের উষ্ণ যুগ- যখন পৃথিবীতে মানুষের আগমন ঘটে নাই এবং তখন স্থলভাগে ডাইনোসরদের আদিপত্য ছিল।যদিও এই আবিষ্কারের যথেষ্ট বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। যে দলটি ইহা আবিস্কার করেছে তারাও মনে করে যে আমাদের ধারণাটি চ্যালেঞ্জ করার যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে।

 দক্ষিণ কোরিয়ায় পাওয়া কুমিরের পায়ের চিহ্ন কলোরাডো ডেনভার ইউনিভার্সিটির পেলিয়ন্টোলজিস্ট মার্টিন লকলে বলেন, পায়ের চিহ্ন দিয়ে তারা এই প্রাণীর জীবন বৃত্তান্ত খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। পায়ের চিহ্ন বলছে, এই প্রাণীটি দুই পায়ে হাঁটত এবং পানিতে বাস করত। এর পায়ের চিহ্নের সঙ্গে এখনকার কুনিরের পায়ের চিহ্নের অনেক মিল রয়েছে। তাই তারা ধারণা করছেন এটি এখনকার কুমিরের পূর্বপুরুষদেরই হবে।

আরো পড়ুন: মনোবাসনা পূরণ করতে উল্টো হয়ে পাথরে চুমু!  

এর আগে ২০১২ সালে এই গবেষক দলই আবিষ্কার করেছিলেন উড়ন্ত সরীসৃপের। ২৩১ মিলিয়ন বছর আগে সরীসৃপ প্রাণীদের ডানা ছিল। এরা তখন বুকে ভর করে চলার পাশাপাশি উড়তেও পারত। এর আগে তারাই আবিষ্কার করেছিলেন, ডাইনোসর নাকি টিকটিকির পূর্বপুরুষ ছিল।   

এই পায়ের ছাপ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা মত। কেউ বলছেন এটি ডায়নোসর কিনফবা উট পাখির পায়ের ছাপ হতে পারে। তবে সেই শঙ্কা দূর করেছেন কোরিয়ার চিনজু জাতীয় শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালযয়ের দল নেতা অধ্যাপক কিং সু কিম। কারণ ডাইনোসর ও উট পাখির বংশধররা তাদের পায়ের আঙ্গুলগুলোতে ভর করে হাঁটত। শুধু কুমিররাই মানুষের মতো স্পষ্ট গোঁড়ালির ছাপ রেখে চলাফেরা করে।

এখনো গবেষকরা বিস্তর গবেষণা চালাচ্ছেন এই পায়ের ছাপগুলো নিয়ে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিল ম্যানিং আবিষ্কারের দলে অর্ন্তভূক্ত ছিলেন না। তবে জীবাশ্ম ট্র্যাকওয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি ছাপগুলোকে খুব আকর্ষণীয় বলে বর্ণনা করেছেন। তবে কুমিরের পায়ের ছাপ কিনা টা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে জীবাশ্মের কোনো হাড় নেই। তাই এটা কুমির কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে গবেষকরা অচিরেই এই বির্তকের অবসান ঘটাবেন। কেননা এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা চালাচ্ছেন গবেষকরা। 

সূত্র:সাইন্সনিউজ  

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেএসকে
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!