বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করা হয়নি, খাওয়া হয়েছে মুরগির বারবিকিউ: হাওয়ার প
আইন ভেঙে বন্যপ্রাণী খাঁচায় বন্দি ও হত্যার অভিযোগে আলোচনায় সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘হাওয়া’। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। প্রথমবারের মতো বিষয়টি খোলাসা করেন ছবির পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন।
বুধবার ডেইলি বাংলাদেশকে তিনি বলেন, এটা তো ফিকশন ঘরানার ছবি। আর সিনেমার শুরুতেই তো সকল কিছুর বর্ণনা দেওয়া আছে। বন্যপ্রাণী আইন-২০১২ লঙ্ঘন করার কোনো কাজ করিনি। চঞ্চল চৌধুরী যেটা খেয়েছে, সেটা ছিল পোড়া মুরগি। যেটাকে সাধারণত আমরা বারবিকিউ বলি।
তিনি আরো বলেন, ছবিটি দেখলে বুঝতে পারবেন পাখির সাইজ এবং যে মাংসটি খাচ্ছে তার সাইজের পার্থক্য আছে। আর ফিকশন ঘরানার ছবির শুট পৃথিবীতে এভাবেই হয়ে থাকে।
এর আগে, মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সিনেমাটির আইনগত বিষয় নিয়ে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় ডেইলি বাংলাদেশের। সে সময় বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও দর্শকদের রিভিউ থেকে জানতে পেরেছি হাওয়া চলচ্চিত্রে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ লঙ্ঘন করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে আমাদের ইনস্পেক্টরদের দায়িত্ব দিয়েছি।
তিনি আরো জানান, তারা চলচ্চিত্রটি দেখে দ্রুত প্রতিবেদন দেবেন। বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘনের সত্যতা পেলে আইন যা বলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘হাওয়া’ সিনেমায় বন্যপ্রাণী বন্দি ও হত্যার বিষয়টি আমরা শুনেছি। পত্রপত্রিকায়ও দেখেছি। কিন্তু মূল সিনেমাটি দেখা হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা আগে সিনেমাটি দেখবো। তারপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কী সিদ্ধান্ত নেয়া যায় সে বিষয়ে গণমাধ্যমে জানানো হবে।
এর আগে, দেশের একটি শীর্ষ দৈনিকে প্রকাশিত চলচ্চিত্রটির রিভিউ থেকে জানা গেছে, এ চলচ্চিত্রে একটি পাখিকে হত্যা করে চিবিয়ে খেয়েছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। বিস্তারিত বর্ণনা করে বলা হয়, মাছ ধরা বোট নয়নতারার সরদার চান মাঝি একটা পাখি পোষে। নিজে জলপানের সময় পাখির খাঁচার খুরিতেও সে জল ঢেলে দেয়। নিয়ম করে খেতে দেয় পাখিটিকে। আবার পথ হারিয়ে এই শালিককে উড়িয়ে দেয় সে। পোষা পাখির ফিরে না আসায় আশা খোঁজে। তারপর পাখি ফিরে আসে। সেটিকে পুড়িয়ে উদরস্থ করতেও সময় লাগে না চানের। হলভর্তি দর্শক চোখমুখ কুঁচকে ‘চান’ চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরীর চিবিয়ে চিবিয়ে পোষা পাখির হাড়মাংস খাওয়া দেখেন। তীব্র রোমাঞ্চ আর ঘৃণা নিয়ে তাকান। দৃশ্যটি তাদের মাথায় গেঁথে যায় অনেক দিনের জন্য।
এই রিভিউটি শেয়ার করে সেদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয় প্রাণীপ্রেমিরা। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে থেকে দাবি তোলা হয় যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দেশজুড়ে মুক্তি পায় ‘হাওয়া’ সিনেমাটি। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া মাঝি ও জেলেদের জীবন ঘিরে নির্মিত সিনেমাটি মুক্তির আগে থেকেই বেশ সাড়া জাগায়। তরুণ নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত এ সিনেমায় চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, নাজিফা তুষি ছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুমন আনোয়ার, সোহেল মণ্ডল, নাসির উদ্দিন।