ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ বিনোদন ]

প্রেমিকের দৃষ্টিতে যেমন ছিলেন লতা মঙ্গেশকর

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:১০, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২
প্রেমিকের দৃষ্টিতে যেমন ছিলেন লতা মঙ্গেশকর
লতা মঙ্গেশকর

রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া আটটার দিকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে মারা গেছেন ভারতীয় উপমহাদেশের সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। দেশটির ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে সফল গায়িকা তিনি। এছাড়া ভারতের ৩৬টি আঞ্চলিক ভাষাতে ও বিদেশি ভাষায় গান গাওয়ার একমাত্র রেকর্ডটি তারই। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি গেয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি গান। তার কণ্ঠে সুর পেয়েছে বিভিন্ন ভাষা। 

এক কথায় গানের জন্য তিনি। তার জন্য গান। লতা মঙ্গেশকর চলে যাওয়ার পরে যেন আরো বেশি জীবন্ত তিনি। গান তাকে বিশ্বজনীন করে তুললেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিশেষত প্রেমের জীবনে দেখা গিয়েছে তিনি কখনো সঙ্গীর সঙ্গে, কখনো বা সঙ্গীহীন।

কোনো দিন বিয়ে করেননি সুরসম্রাজ্ঞী। শুধুই কি গানের জন্য দাম্পত্যকে জীবনে আনলেন না এই সাধিকা? লতা মঙ্গেশকর নামের উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই উঠে আসে।

শোনা যায়, লতা মঙ্গেশকর এক সময়ে প্রেমে পড়েছিলেন। কিন্তু তার সেই ভালবাসা পূর্ণতা পায়নি। প্রেমের ব্যর্থতাই কি তবে আরও বেশি করে সঙ্গীতকে আঁকড়ে ধরতে সাহায্য করেছে?

কে ছিলেন সেই প্রেমিক?
লতার ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন প্রয়াত ক্রিকেটার এবং ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রাক্তন সভাপতি রাজ সিং দুঙ্গারপুর। প্রাক্তন এই ক্রিকেটার রাজস্থানের রাজপরিবারের সদস্য ছিলেন এবং দুঙ্গারপুরের তৎকালীন শাসক প্রয়াত মহারাওয়াল লক্ষ্মণ সিংজির কনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন।

হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর এবং রাজ সিং দুঙ্গারপুর সত্যিই ভালো বন্ধু ছিলেন। তাদের বেশিরভাগ আড্ডা হতো হৃদয়নাথের বাড়িতে। সেখানেই রাজ সিং বন্ধুর বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। রাজ সিং এবং লতার কয়েকবার দেখা করার পর একে অপরের প্রেমে পড়েন। আরো জানা যায়, রাজ সিং লতা মঙ্গেশকরকে ‘মিঠু’ নামে ডাকতেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, লতা মঙ্গেশকর এবং রাজ সিং দুঙ্গারপুর দু’জনেই বিয়ে করার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু, তিনি যখন তার বাবা-মাকে এই বিষয়ে জানান তখন তার বাবা, মহারাওয়াল লক্ষ্মণ সিংজি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এর পিছনে কারণ ছিল লতা কোনো রাজপরিবারের সদস্য ছিলেন না। তাই মহারাওয়াল লক্ষ্মণ তার ছেলে রাজ সিংকে একটি সাধারণ মেয়েকে বিয়ে করতে দিতে পারেননি।

মহারাওয়াল লক্ষ্মণ সিংজির দৃঢ় সিদ্ধান্ত রাজ সিং দুঙ্গারপুর এবং লতা মঙ্গেশকরের স্বপ্নের দুর্গটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভেঙে দিয়েছিল। বাবার প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার কারণে পিতার সিদ্ধান্ত মেনে নেন তিনি। কিন্তু, রাজসিং তার পুরো জীবনে কাউকে বিয়ে না করার প্রতিজ্ঞা করেন এবং সেই কথা বাবা-মাকেও এ কথা জানিয়েছিলেন। যাই হোক, লতা মঙ্গেশকরও একই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন এবং দু’জনেই আজীবন বন্ধু ছিলেন। তবে লতা মঙ্গেশকর এবং রাজ সিং দুঙ্গারপুর তাদের সম্ভাব্য সম্পর্কের খবরে কখনো কোনো কথা বলেননি বা প্রতিক্রিয়া জানাননি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/টিএএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!