ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

টিউশনির টাকা জমিয়ে অজুখানা দিলেন ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা

ঢাবি প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৪:৫০, ২ মে ২০২২
টিউশনির টাকা জমিয়ে অজুখানা দিলেন ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-সম্পাদক সোলাইমান হোসাইন।

দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে ছিলো না কোনো অজুখানা। এতে মুসল্লিরা অজু করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তেন। 

তাই এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-সম্পাদক সোলাইমান হোসাইন। তিনি লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। 

জানা যায়, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-সম্পাদক সোলাইমান কোচিংয়ে ক্লাস নিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ চালান। সেই আয় থেকে জমানো অর্থেই নিজ এলাকার মসজিদে অজুখানা নির্মাণ করেছেন। এর আগে মসজিদে লাশ বহনের একটি খাটিয়া দিয়েছেন তিনি। 

রমজানের শুরুর দিকে অজুখানা নির্মাণের কাজ শুরু করেন সোলায়মান। নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে গত কয়েকদিন আগে। এতে সবাই সুন্দরভাবে বসে অজু করতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুসল্লিরা, সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছেন এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রমজানের প্রথম থেকে কাজ শুরু হয় অজুখানা নির্মাণের। গত কয়েকদিন আগে শেষ হয় অজুখানার কাজ। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে এখানে বসে অজু করতে পারছেন মুসল্লিরা। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। 

সোলাইমান বলেন, ভালো কাজ করার সুযোগ সবার ভাগ্যে হয় না। দীর্ঘ দিন থেকেই এই মসজিদে অজুখানা ছিল না। আমি আমার টিউশনি আর আমার কোচিং রেডিয়াস একাডেমিক কেয়ারে পড়িয়ে যে টাকা জমিয়েছিলাম তা দিয়ে অজুখানা তৈরি করতে পেরেছি। এর জন্য আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া জানাই। কাজটা করতে পেরে আমার নিজের কাছে খুবই ভালো লাগছে। 

সমাজের বিত্তবানদের এই কাজগুলো করা জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক কাজে সবার এগিয়ে আসা উচিত। এতে আমাদের সমাজ বদলে যাবে। সামাজিক সমস্যাবলী সমাধান হবে।

মুসল্লিরা বলেন, এখন থেকে এই মসজিদে অজু করতে আর কষ্ট করতে হবে না। এরইপূর্বে সোলাইমান এই মসজিদে লাশ বহন করার খাটিয়াও দিয়েছিলেন। যার ফলে আমরা গ্রামের মানুষের অনেক উপকার হয়েছে। তার জন্য আমরা দোয়া করি। রমজানের প্রথম থেকে অজুখানা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। যা কয়েকদিন আগে শেষ হয়েছে। বর্তমানে সবাই সুন্দরভাবে বসে অজু করতে পারছি। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!