প্রধান ফটকের সামনের মহাসড়কই যেন মরণফাঁদ!
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটক সংলগ্ন কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এ মহাসড়ক পার হয়ে ক্যাম্পাসে আসতে হয় হাজারো শিক্ষার্থীদের। কিন্তু ফটকের সামনে গতিরোধক বা ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় দ্রুতগতিতে আসা গাড়ির সামনে দিয়েই রাস্তা পার হতে হয় তাদের। শিক্ষার্থীরা ফটকের সামনে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য দফায় দফায় দাবি করলেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধা না থাকায় পার্শবর্তী মেসগুলোতে থাকতে হয় অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকার মেসে থাকে অনেক শিক্ষার্থীরা। সবমিলে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন এ মহাসড়ক পার হতে হয়। ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় দ্রুত গতিতে চলাচলকারী গাড়ির সামনে দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাদের।
দুর্ঘটনা এড়াতে দফায় দফায় ফটকের সামনে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। পরে ফুটওভার ব্রিজ না হলেও স্পিড ব্রেকার স্থাপন করে প্রশাসন। কিন্তু ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে ভেঙে ভেঙে প্রায় রাস্তার সমান হয়ে গেছে স্পিড ব্রেকারগুলো। ফলে কোন বাধা না থাকায় তীব্র গতিতে চলাচল করে গাড়িগুলো। ক্যাম্পাস এলাকায় সর্বোচ্য গতিসীমা ২০ রাখার নির্দেশনা থাকলেও তার তোয়াক্কা করেনা গাড়ির চালকরা। এদিকে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তা প্রশস্ত করার কারণে এখানে এসে ওভারটেকিং করছে অনেক গাড়ি। ফলে পারাপারের সময় ঝুঁকি আরো বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সর্বশেষ গত ২৭ ডিসেম্বর ফটকের সামনে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণসহ তিন দফা দাবিতে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে পরে এবিষয়ে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্তৃপক্ষের এই নির্লিপ্ত ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী তৌফিক আহমেদ বলেন, ফটকের সামনে দুইটি স্পিডব্রেকারের মধ্যে একটি একেবারেই ভেঙে গেছে আরেকটাও প্রায় দেবে গেছে। ফলে গাড়িগুলো খুব দ্রুত গতিতে চলছে। এসব গাড়ির সামনে দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অতি দ্রুত এখানে স্পিডব্রেকার স্থাপন করা দরকার। এছাড়া এখানে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরী। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবিষয়ে কোন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। আমরা কোন দুর্ঘটনা ঘটলে বা কোন শিক্ষার্থীর মৃত্যু দেখতে চাইনা। কোন দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এবিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, মহাসড়কের বিষয় তো আমাদের এখতিয়ারভূক্ত নয়। তবুও আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো। যদি দরকার হয় তাহলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দেখবো। যদি ফুটওভার ব্রিজ প্রয়োজন হয় তাহলে তা নির্মাণের উদ্যোগ নিব।