ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ

শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:২৭, ১৯ ডিসেম্বর ২০২১
নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ
ফাইল ছবি

‘ভাষা’

প্রথম অধ্যায়

প্রথম পরিচ্ছেদ

(শহীদ মুনীর চৌধুরী ও শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর বোর্ড বই অনুসারে)

ভাষা কাকে বলে?

অন্যের কাছে মনের ভাব বা কোনো কিছুকে মুখে প্রকাশ করাকে ভাষা বলে। এজন্য মানুষ মুখকে প্রধানত ব্যবহার করেন। মুখের ভেতরে মনের ভাব প্রকাশের সহায়ক হিসেবে থাকে গলা। গলার ভেতরের নালিগুলো, কণ্ঠস্বর; মুখের ভেতরের জিহ্বা, তালু, দাঁত, নাক, ইত্যাদি কথা বলার প্রধান উপকরণ। এগুলো মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অংশ। মানুষ তার কথা বা মনের ভাব প্রকাশের জন্য হাত পা, চোখ, কান, নাক ইত্যাদিসহ সব শারীরিক উপকরণকেও ব্যবহার করে। তবে এগুলো ভাষার অপ্রধান উপকরণ। আদিকাল থেকে, যখন মানুষ ভাষার ব্যবহার শিখেছে চলেছে তখন থেকে এই সবগুলো উপকরণই ব্যাপক ও বিস্তৃতভাবে মানবজাতি ব্যবহার করে চলেছে। সভ্যতার শেষ পর্যন্ত এভাবে ভাষা ও ভাবের বিনিময় চলবে।

আলাদা ভাষার জন্ম কেন হয়েছে?

বিশ্বে সব মানুষই তাদের মুখের মাধ্যমে ভাষার প্রকাশ করেন বা কথা বলেন। তবে তাদের কথার অর্থ সেই দেশে জন্ম নেওয়া ভাষার কারণে আলাদা হয়। আমাদের যেমন ভাষা বাংলা, ইংরেজদের ইংরেজি; আরবদের ভাষা আরবি।

ভাষার পার্থক্য কেন হয়?

দেশ, সময় ও পরিবেশের জন্য প্রধানত ভাষার পার্থক্য ঘটে। একটি দেশে এক ধরনের ভাষার ব্যবহার হয়, সেই কথাগুলোই অন্য দেশের মানুষরা আলাদা ভাষায় বলেন। একটি সময়ে একটি কথার যেমন একটি অর্থ থাকে, অন্য সময়ে সেটির আলাদা অর্থ হয়। এই ভিন্নতা সব দেশেই, সবখানেই আছে। আবার পরিবেশ ভাষার এই পার্থক্যের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নিয়ামক সর্বত্রই। মানুষ তার ভাষা প্রকাশের জন্য যেমন মনের ভাবকে বেছে নেন, তেমনি তারা মনের ভাব প্রকাশের জন্য বিভিন্ন বস্তু বা উপকরণ ব্যবহার করেন। যেমন : বাংলাদেশিরা পাথর বলেন, সেটিকে ইংরেজরা বলেন স্টোন। পানি আমরা খাই, ওয়াটার বলেন ইংরেজি ভাষার লোকেরা। বিভিন্ন পরিবেশে ভাষাকে প্রকাশের জন্য মানুষ যেসব বস্তু ও ভাবকে ব্যবহার করেন তাদের ইংরেজি ‘সিম্বল’ বলে। এই কারণেও মুখের ভাষার বাইরে বিভিন্ন ধরনের উপকরণের ব্যবহার ভাষার ভেতরে দেখতে পাই। সেগুলো দেশভেদে আবার ভিন্ন, ভিন্ন হয়। যেমন আফ্রিকাতে বাওবাব গাছ আছে, আমাদের দেশে নেই। ফলে তারা বাওবাব বললে যে গাছটির কথা মনে ভাসে ও সেখানে দেখা যায়, আমাদের দেশে দেখা যায় না। আমাদের দেশে বটগাছ বললে যে গাছটির কথা মনে পড়ে, সেটি তারা কল্পনাও করতে পারেন না। তবে ভাষার সাধারণ ব্যবহার সবখানে একই একটি বিশেষ বস্তুর ক্ষেত্রে ঘটে। যেমন গাছ বললে আমরা যা বোঝাই, বিদেশের যে কোনোখানে তাই হয়। তবে ভিন্ন ভাষায় এই যা। গাছ বা ট্রি হলো মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান কারিগর। তারা অক্সিজেন দিয়ে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। মাটি থেকে পানি নিয়ে আবার সেই পানি ফিরিয়ে দিয়ে মানুষের বাসযোগ্য ও চাষাবাদের উপযোগী রাখে ভূমি। সেটি আমাদের সবার জীবন বাঁচায়, খাবার জোগায় চাষাবাদের মাধ্যমে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!