ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

রাবি চিকিৎসা কেন্দ্রের ‘চিকিৎসা’ প্রয়োজন, বিকল কিউএস মেশিন

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৩০, ১৯ ডিসেম্বর ২০২১
রাবি চিকিৎসা কেন্দ্রের ‘চিকিৎসা’ প্রয়োজন, বিকল কিউএস মেশিন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যিালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র, ইনসেটে দুটি নষ্ট কিউএস মেশিন

দেশে একটি প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে ‘সর্ষের মধ্যে ভূত।’ ভূতে ধরা বা ভূতের আছড় থেকে মানুষকে চিকিৎসার জন্য কবিরাজ বা ওঝাঁরা সরিষা ব্যবহার করতেন। কখনো যদি সরিষার মধ্যে কোনো ত্রুটি থাকতো তবে তা দিয়ে ভূত তাড়ানো যেতো না। প্রবাদের মতোই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিকিৎসা কেন্দ্র অবস্থা একই রকম। যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা সুচিকিৎসা গ্রহণ করবে, সেই চিকিৎসা কেন্দ্রেরই এখন ‘চিকিৎসা’ প্রয়োজন।

রাবির চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রবেশ পথে রয়েছে দুইটি কিউএস মেশিন। যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, রোগীর ব্যবস্থাপত্র, ইলেকট্রনিক রেকর্ডে সংযোজন, রোগ অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা নেয়াসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু মেশিন দুইটি বিকল থাকায় শিক্ষার্থীরা সেই সুযোগ পাচ্ছে না। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অকেজো রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এছাড়াও কম্পিউটারসহ চিকিৎসায় ব্যবহৃত অধিকাংশ সরঞ্জাম মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সেগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। একারণে পূর্বের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে চিকিৎসকদের। ফলে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না যথাযথ চিকিৎসা সেবা।

চিকিৎসা কেন্দ্রের ডাক্তাররা বলেছেন, গত বছরের জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে মেডিকেলের দুইটি কিউএস মেশিনের দুটাই নষ্ট হয়ে যায়। কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় আইসিটি সেন্টার একটিতে কম্পিউটার সিস্টেমে এনে দিলেও অচলাবস্থা কাটেনি। অন্য দিকে চিকিৎসায় ব্যবহৃত অধিকাংশ সরঞ্জামের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা আর ঠিকভাবে কাজ করছে না। একারণে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর থেকে চাপ মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক ডা. মো. তবিবুর রহমান বলেন, আমাদের দুইটি কিউএস মেশিন অচল। বিকল্প হিসেবে একটি কম্পিউটার সংযোগ করে দিয়েছে আইসিটি সেন্টার। তবে এতে সম্পূর্ণ কাজ হচ্ছে না। কিছুটা কাজ হলেও শিক্ষার্থীদের ভিড় কমেনি। প্রেসক্রিপশন দিতে হচ্ছে আগের নিয়মে। তাই বেশি সময় লাগছে।

তিনি আরো বলেন, মেয়াদত্তীর্ণ হওয়ার কারণে অনেক কম্পিউটারের সিপিইউ, মনিটর কাজ করছে না। কম্পিউটার গুলোকে নষ্ট বলতে করতে পারছি না আবার ঠিকও বলতে পারছি না। কখনো কাজ করে আবার কখনো করে না। এতে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। হ-জ-ব-র-ল অবস্থার মধ্য দিয়ে কোনোমতে কাজ চালাচ্ছি।

ডা. তবিবুর আরো বলেন, সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইসিটি সেন্টারের পরিচালককের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। আইসিটি সেন্টার জানায়, এই খাতে একটা ফান্ড ও লজিস্টিক সাপোর্ট প্রয়োজন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক বাবুল ইসলাম বলেন, করোনার মধ্যে কিউএস মেশিন দুটি নষ্ট হয়। এর আগেও এগুলো কয়েকবার নষ্ট হয়েছে, আমরা মেরামত করেছি। একটি কিউএস মেশিনের তিনটি প্রধান জিনিস থাকে। তা হলো কার্ড রিডার, স্কেনার এবং মনিটর। যার সবই নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো আর মেরামত করার মতো অবস্থা নেই। তবে কম্পিউটারের সংযোগ রেখে এর একটিকে আমরা সচল করে দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক যে বাজেট তৈরি হয়, সেখান থেকে আইটি খাতে বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম বলেন, চিকিৎসা কেন্দ্রের যদি কোনো সরঞ্জাম নষ্ট বা অকেজো হয়ে যায়, তাহলে অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকতার তা যথাসময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো উচিত। কি কি নষ্ট হয়েছে, তা দেখে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। চিকিৎসায় ব্যবহৃত অনেক সরঞ্জাম করোনায় দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে অকেজো হতে পারে। তবে অচলাবস্থা আসার আগেই এই বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্মকতাদের জানানো উচিত ছিলো।

প্রো-ভিসি আরো বলেন, আমি খুব শীঘ্রই চিকিৎসা কেন্দ্র পরিদর্শন করবো। এবিষয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রের ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলব। এরপর চিকিৎসা সরঞ্জাম যা অকেজো বা নষ্ট হয়েছে, তা ঠিক করা হবে। আর অচলাবস্থা থাকবে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!