এসো ভিজি আজ বৃষ্টিতে
নীলাভ আকাশজুড়ে ধবল মেঘরাজির খুনসুটি। একটু পরেই আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। গুড়ুম গুড়ুম মেঘের ডাক সঙ্গে ঝুম বৃষ্টি। আর তা দেখে হাসি ফুটেছে তাদের মুখে। বৃষ্টিতে ভিজে দুরন্তপনায় মেতে উঠেন তারা। রাস্তার উপর শুরু করেন ফুটবল খেলা। মেতে উঠেন দুষ্টুমিতে।
বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যারিস রোডের বৃষ্টি বিলাসী কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথা।
তাদের এই দুরন্তপনা আর বৃষ্টিস্নাত সবুজ সতেজ প্রকৃতি মূর্ত হয়ে উঠেছে এক অপার সৌন্দর্যে। আর সে সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ছে পুরো ক্যাম্পাসে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খ্যাত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বর্ষার বৃষ্টিতে ধারন করে এক মোহময় রূপ। সৌন্দর্যে মাখামাখি হয়ে যায় চারদিক। যেন প্রতিটি জায়গা থেকে ঠিকরে বের হয় সে সৌন্দর্য। যার প্রেমে পড়ে যায় বইয়ের ভেতরে সব সময় মুখ গুজে থাকা ক্লাস টপারও।
বৃষ্টি বিলাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহীন আলম বলেন, দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠ হাজারো শিক্ষার্থীর ভালোবাসার জায়গা। এ প্রাঙ্গণের প্রতিটি ধূলিকণা খুব আপন। গত ৫-৬ বছরে ক্যাম্পাসে অনেক বৃষ্টি দেখেছি, দুই একবার ভিজেছি। কিন্তু এভাবে কখনো ঝুম বৃষ্টিতে প্যারিস রোডে ফুটবল খেলা হয়নি। পড়াশোনার জন্য অনেকেই ক্যাম্পাসে দীর্ঘ সময় থেকেছেন, কিন্তু এমন সুন্দর পরিবেশ উপভোগ করার সৌভাগ্য সবার হয়নি। কৈশোরে বৃষ্টি হলেই বল নিয়ে মাঠে খেলতে গেছি। মাঠের বৃষ্টি আর প্যারিস রোডের এই বৃষ্টি এক নয়। বহু বছর পরও হয়তো আজকের এই বৃষ্টিতে ভেজার অনুভূতি অন্য কোন অনুভূতির সঙ্গে মিলবে না।
বৃষ্টি থামার পর বৃষ্টিস্নাত প্যারিস রোড অপরূপ লাগে। ক্যাম্পাসের পিচঢালা রাস্তাগুলোকে স্বচ্ছ আয়নার মতো মনে হয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট থেকে প্রশাসন ভবন হয়ে যে রাস্তাটি শেরে বাংলা একে ফজলুল হক হল পর্যন্ত গেছে তা নয়নাভিরাম দৃশ্য ধারন করে। রাস্তার দুইপাশে সারি সারি গগনশিরীষ গাছগুলোর পাতা থেকে টুপটাপ পড়ে বৃষ্টির ফোঁটা, সত্যিই তা অসাধারণ লাগে।
বৃষ্টিতে প্রেম একটু গাঢ় হয় কি না কে জানে! তবে প্রেয়সীর হাত ধরে একই ছাতার নিচে বৃষ্টির স্পর্শ নিতে দেখা যায় ক্যাম্পাসের প্রেমিক যুগলদের। কখনো প্রেয়সীর হাত ধরে বৃষ্টিতে ভিজে প্রেমিক। এমন সৌন্দর্য যেখানে বৃষ্টি নামলে, সেখানকার বাসিন্দাদের মন চনমনে হয়ে উঠাই স্বাভাবিক।
বর্ষায় সবুজে সবুজে ভরে উঠেছে ক্যাম্পাস। বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, লতাপাতা, পাখি আর প্রজাপতিরা হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত। একই সঙ্গে বৃষ্টিস্নাত রাস্তা, পুকুরে শাপলা, পদ্ম, বাগানে ফুটা বকুল, জুঁই, কেয়াফুলের আগমনে প্রকৃতি হয়ে উঠেছে রঙিন। তবে এত সৌন্দর্যের মধ্যে নেই কোনো কোলাহল, প্রাণের চঞ্চলতা। মহামারি করোনাভাইরাস গ্রাস করে দিয়েছে সবকিছু।