ঢাকা,  শুক্রবার   ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ অর্থনীতি ]

সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচাবাজারের দরমূল্য যেমন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ১৪ আগস্ট ২০২০
সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচাবাজারের দরমূল্য যেমন
ফাইল ছবি

সপ্তাহের ব্যবধানে বেশির ভাগ সবজির দাম না বাড়লেও আগের মতো বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ সবজি। ডিমের দামও আগের মতো বেশিই হাকাচ্ছে দোকানিরা। তবে কিছুটা কমেছে মাছ ও মুরগির দাম। পাশাপাশি শসা, কচুর লতি, কাঁচা কলা ও পেঁপের দাম কিছুটা কমেছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি করলা ৬০-৭০ টাকা, উস্তা ৮০-১০০ টাকা, ঝিঙা-চিচিঙ্গা-ধুন্দল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাকরোল ৫০-৬০ টাকা, বরবটি ৭০-৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০-৫০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, বেগুন ৬০-৮০ টাকা ও আলু ৩৫ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এসব বাজারে কিছুটা দাম কমেছে হাইব্রিড শসা, কচুর লতি, ধনিয়া পাতা, কাঁচা কলা ও পেঁপের দাম। হাইব্রিড শসা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা, কচুর লতি ৪০-৫০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা ও কাঁচা কলা ৩০ টাকা হালি।

এছাড়া প্রতিটি লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা ও জালি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর বর্তমানে প্রতিকেজি দেশি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা ও আমদানি করা মরিচ ১৮০ টাকা।

শাক-সবজির চড়া দাম নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে। বিক্রেতারা বলছেন, দেশে চলমান বন্যায় ফসলের ক্ষতি হওয়ায় বাজারে আগের মতো সবজি আসছে না। আর ক্রেতারা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ থাকলে বাজার মনিটরিং না থাকায় দাম কমছে না পণ্যের।  

উত্তরা ৬ নাম্বার কাচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মনির মিয়া বলেন, চলমান বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বাজারে সবজি বেশি আসছে না। আড়তে সবজির সরবরাহ অনেক কম। এ কারণে দাম কমছে না।

এ সময় আমিনুল ইসলাম নামে একজন ক্রেতা বলেন, বাজারে দেখলাম সবজির কোনো ঘাটতি নেই। দোকানিরা বন্যার দোহাই দিয়ে দাম বেশি চাইছেন। কিন্তু সারাদেশে এমন কোনো বন্যা হয়নি যে, ভরা মৌসুমেও সবজির এতো বেশি দাম হবে। তিনি বলেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং হয় না বলেই ব্যবসায়ীরা দাম না কমিয়ে ইচ্ছামতো বাড়াতে পারেন।

তবে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে মাছের বাজারে। নিম্নমুখী ভাব রয়েছে মুরগির বাজারেও। তবে আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিম। এছাড়া গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি ও দেশি মুরগি কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার। বর্তমানে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকা দরে। লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা আর সাদা লেয়ার ১৮০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি ও দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা কেজি।

এসব বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৫৮০ টাকা কেজি ও খাসির মাংস ৭৫০-৭৮০ টাকা কেজি। কিন্তু চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিম। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। দেশি মুরগির ডিম ১৭০ টাকা। আর হাঁসের ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা ডজন।

বর্তমানে ১.২৫ কেজি থেকে ১.৫০ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১১০০-১২০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০-১০০০ টাকা কেজি, ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬০০-৬৫০ টাকায় কেজি, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি ও ছোট ইলিশ আকার ভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম কমায় অন্যান্য মাছের দামও কমেছে কেজিপ্রতি ৪০-৫০ টাকা।

কারওয়ানবাজারের মাছ বিক্রেতা কফিল উদ্দিন বলেন, এখন ইলিশের দাম কম হওয়ায় সব মাছের দাম কমে গেছে। বাজারে ইলিশের সরবরাহ অনেক বেড়েছে, তাই দামও কম।

এদিকে আগের দামই রয়েছে আদা, পেঁয়াজ ও রসুনের বাজারে। প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, আদা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা ও রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা।

চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি মিনিকেট (নতুন) চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, মিনিকেট (পুরাতন) ৫৫ টাকা, বাসমতি ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, গুটি স্বর্ণা ৪০ থেকে ৪২ টাকা ও পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। খোলা সয়াবিন (লাল) তেল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা লিটার, খোলা (সাদা) সয়াবিন ১০০ টাকা লিটার। খোলা সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা লিটার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!