ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ও আগুন দেয় জোবায়ের

ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৪৬, ২১ এপ্রিল ২০১৯
নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ও আগুন দেয় জোবায়ের
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ও আগুন দেয় হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সাইফুর রহমান মো. জুবায়ের।

রোববার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহম্মদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের সময় এ তথ্য জানায় জুবায়ের।

জবানবন্দির পর সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফ করেন পিবিআই এর চট্টগ্রাম বিভাগের স্পেশাল পুলিশ সুপার মো. ইকবাল। এসময় তিনি বলেন, নুসরাত হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় জোবায়ের। সে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ও মেসের কাঠির আগুন ধরিয়ে দেয়।

তিনি আরো বলেন, জবানবন্দিতে জোবায়ের এ হত্যার বিষয়ে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। কিন্তু মামলার তদন্তের স্বার্থে উল্লেখ করা যাবেনা।

এর আগে ১০ এপ্রিল জোবায়েরকে সোনাগাজী থেকে গ্রেফতার করা হয়। ১১ তারিখে একই আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দেয়। সে নুসরাতের সহপাঠী ছিলো  ও সোনাগাজী পৌর শহরের আবুল বাশারের ছেলে।

মামলার অন্যতম আসামী নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে আসে জোবায়ের কথা। শামীম বলেছেন, নুসরাতকে মেঝেতে শুইয়ে ফেলার পর জোবায়ের নুসরাতের ওড়না দুই টুকরো করে তার হাত ও পা বেঁধে ফেলে। এদিকে, শনিবার জোবায়েরকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবিআই। এ ঘটনায় ব্যবহৃত বোরকা খাল থেকে উদ্ধার করা হয় ।

৬ এপ্রিল শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদরাসার সহপাঠী নিশাতকে ছাদের উপর মারধরের খবরে ওই ভবনের ছাদে যায়। সেখানে বোরকা পরিহিতরা তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। সে অস্বীকৃতি জানালে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। ওই দিন দগ্ধ নুসরাতকে ফেনী ও পরে  ঢাকার বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ঘটনায় সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের লাইফ সাপোর্টে নুসরাত মারা যান।

এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নীপিড়নের অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!