এসিল্যান্ড নেই কোটালীপাড়ায়, ৯৮৬ নামজারি আবেদন ঝুলে আছে
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের পদ শূন্য থাকায় ভূমিসেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। নামজারি, মিসকেস নিষ্পত্তিসহ জমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে তৈরি হয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। এর মধ্যে নিষিদ্ধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ জানাতে গিয়েও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়ছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে জমা পড়া ১ হাজার ১৮৪টি নামজারি আবেদনের মধ্যে ৯৮৬টি এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ৩৫৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলায় প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। গত ২৬ জুলাই সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুম বিল্লাহ বদলি হয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়ায় নামজারি, মিসকেস নিষ্পত্তি, অর্পিত সম্পত্তি নবায়ন, কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত, হাটবাজার নবায়ন ও খাসপুকুর ইজারাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়। পিড়ারবাড়ি গ্রামের কৃষক সুখ রঞ্জন বাড়ৈ একটি মিসকেসের কাজে অফিসে এসেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা না থাকায় তার কাজ সম্পন্ন হয়নি। এ জন্য তাকে আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে জানানো হয়।
ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতেও ভোগান্তি
অন্যদিকে উপজেলার মান্দ্রা গ্রামে টানা তিন দিন ধরে নিষিদ্ধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় এক ব্যক্তি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “তিন দিন ধরে এলাকায় অবৈধ ড্রেজার চলছে। সেটি বন্ধ করার জন্য অভিযোগ জানাতে এসেছি। এসে দেখি, এসিল্যান্ড স্যার নেই। ইউএনও স্যারকে জানাতে বলা হয়েছে। শুনলাম, ইউএনও স্যারও অফিসে নেই। এত বড় একটি উপজেলায় দীর্ঘদিন এসিল্যান্ড না থাকায় আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত এসিল্যান্ড নিয়োগ দেওয়া হোক।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। নিয়মিত তদারকি না থাকলে এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলেও মনে করছেন তারা।
অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ইউএনও
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, পৌরসভাসহ একযোগে চারটি দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় তার কাজের চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। এরপরও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে তিনি নিজ উদ্যোগে নামজারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইউএনও জানান, গত সপ্তাহে প্রায় দুই শতাধিক নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা ভূমি অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, এসিল্যান্ড না থাকায় নামজারি ও বিভিন্ন মামলা নিষ্পত্তিসহ একাধিক কাজে জট তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় চার লাখ মানুষের ভূমিসেবা নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। দ্রুত নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে ভূমি প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরবে এবং সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।