ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

রূপগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগ, দপ্তরির বিরুদ্ধে তদন্ত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৩৩, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
রূপগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগ, দপ্তরির বিরুদ্ধে তদন্ত
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাহমুদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের দপ্তরি সবুজ ফরাজীর (৪২) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক। 

তদন্ত কমিটির এক সদস্যের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এদিকে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা সাহেরা বেগমের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর বিদ্যালয়ে টিফিনের সময় বেসিন থেকে খাবার পানি আনতে যায় চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। এ সময় তাকে একা পেয়ে বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও মাহমুদাবাদ গ্রামের আবুল হোসেন ফরাজীর ছেলে সবুজ ফরাজী জোর করে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় অন্য শিক্ষার্থীরা ঘটনাটি দেখে ফেলে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা সাহেরা বেগম রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ অক্টোবর পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ মাসুম, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৪ সালে একই বিদ্যালয়ের আরও চার শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন, শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল সবুজ ফরাজীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে অভিযোগকারীদের শাসিয়ে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আগের অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন। তবে অভিযুক্তের প্রতিবন্ধী সন্তানের ভরণপোষণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সে সময় তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৩ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে সবুজ ফরাজীর বিরুদ্ধে একের পর এক এ ধরনের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।

অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ, হুমকির দাবি:
বর্তমান ঘটনায় অভিযোগ প্রত্যাহার করতে ভুক্তভোগীর মা সাহেরা বেগমের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, অভিযুক্তের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিছু টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এরপর অভিযোগ তুলে না নিলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

তদন্ত কমিটির বক্তব্য:
মাহমুদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন বলেন, শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্ত চলছে। তদন্তকাজ যেন ব্যাহত বা প্রভাবিত না হয়, সে জন্য এ মুহূর্তে কিছু বলা ঠিক হবে না। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির সদস্য নাজমুন নাহার বলেন, এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক বলেন, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনোভাবেই এর ব্যত্যয় ঘটবে না।

এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অতীতের অভিযোগগুলোও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!