ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

স্বামীর মারধর-নির্যাতনে অতিষ্ঠ, ঘুমন্ত মেয়েকে নদীতে ফেলে হত্যা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:০৬, ২৮ আগস্ট ২০২৩
স্বামীর মারধর-নির্যাতনে অতিষ্ঠ, ঘুমন্ত মেয়েকে নদীতে ফেলে হত্যা
পপি আক্তার

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ঘুমন্ত মেয়েকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে মা পপি আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্বামীর মারধরে অতিষ্ঠ হয়ে ঘুমন্ত মেয়েকে নদীতে ফেলে হত্যা করেন বলে সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন পপি আক্তার।

গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের হীরাধর এলাকার কাঁচামাটিয়া নদী থেকে লাইসা আক্তার ছোঁয়া নামে ১০ মাস বয়সী শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শিশুটি ওই এলাকার জিয়াউল হকের মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন। সে সময় বাবা জিয়াউল ও মা পপি আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও শিশুটির মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে, পরপর তিনদিন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন পপি। খবর পেয়ে রোববার রাতে পপিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পপির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পপির তৃতীয় সন্তান ছিল লাইসা। প্রথম দুই সন্তান জন্মের পরপরই মারা যায়। এ নিয়ে পপির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলত। শিশু লাইসা জন্মের পরও পারিবারিক কলহে মারধর করতেন স্বামী জিয়াউল। পপিকে বাবার বাড়িতেও যেতে দেওয়া হতো না। এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের জন্যই তার মুক্তি মিলছে না বলে মনে হতে থাকে পপির। হতাশা থেকে ঘুমন্ত মেয়েকে বাড়ির পেছনের নদীতে ফেলে দেন পপি।

বিষয়টি নিয়ে গত রোববার রাতেই থানায় হত্যা মামলা করেন জিয়াউল। পরে গতকাল সোমবার দুপুরে পপিকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি পিএসএম মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং বাবার বাড়িতে যেতে না পারার ক্ষোভ থেকে ঘুমন্ত মেয়েকে পানিতে ফেলে হত্যা করেন মা। জবানবন্দি শেষে পপিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!