ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ফেরিওয়ালার দুই ছেলে বিসিএস ক্যাডার ও ফুটবলার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২৬, ১৩ আগস্ট ২০২৩
ফেরিওয়ালার দুই ছেলে বিসিএস ক্যাডার ও ফুটবলার
মিরাজুল হকের সঙ্গে বিসিএস ক্যাডার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (বামে) ও ফুটবল নিয়ে খেলছেন আলমগীর মোল্লা (ডানে)- ছবি: সংগৃহীত

মিরাজ হক। পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। তার দুই সন্তান। একজনের নাম জাহাঙ্গীর আলম, আরেকজনের নাম আলমগীর মোল্লা। তারা নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। এখন একজন বিসিএস ক্যাডার আরেকজন জাতীয় দলের ফুটবলার।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফেরি করে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করেন মিরাজ হক। তার বাড়ি একই উপজেলায়।

দীর্ঘদিন ধরে বাবা মিরাজের কষ্টের টাকায় ও নিজেদের অধ্যবসায়ে তাদেরকে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে হয়েছে। তাদের বাবা মূলত ফেরি করেই সংসার চালান। সেই টাকা দিয়েই দুই ছেলেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পড়িয়েছেন একসঙ্গে।

ছোট থেকেই দুই ভাই খুব মেধাবী। অধ্যবসায়ের জোরে সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে সাফল্য অর্জন করেছেন তারা। ফেরিওয়ালা বাবা যাদের গর্ব।

ফেরিওয়ালা বাবা মিরাজের বড় ছেলে জাহাঙ্গীর সদ্যঘোষিত ৪১তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তার ছোট ছেলে আলমগীর ঢাবি ছাত্র ও জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়।

বড় ছেলে জাহাঙ্গীর ঢাবিতে সমাজকল্যাণ ও গবেষণা বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করেছেন ও ছোট ছেলে আলমগীর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র এবং জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়।

মিরাজুল হক অনেক আগে থেকেই কালীগঞ্জের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশায় বিভিন্ন জিনিসপত্র ফেরি করে বিক্রি করেন।

মিরাজ হক বলেন, ‘স্বপ্ন ছিল ছেলেরা পড়াশোনা করে চাকরি করবে, এ জন্যই তো এই শ্রম। এভাবে কষ্ট করে চলি। বৃষ্টির দিনও ব্যবসা বন্ধ রাখিনি সন্তানদের কথা চিন্তা করে। আর এই পথ পাড়ি দিতে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করতে হয়েছে।’  

ঐ দুই ছেলের মা জুলেখা বেগম বলেন, ‘ছেলে দুটির পড়ালেখা করাতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। খেয়ে না খেয়ে জোগাতে হয়েছে তাদের পড়ালেখার খরচ। অবশেষে ছেলেদের এই সাফল্যে আমরা অনেক খুশি।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: ঝিনাইদহ
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!