ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বগুড়ায় থামছে না মাটিদস্যুদের তাণ্ডব 

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৫৭, ১৫ জুন ২০২৩
বগুড়ায় থামছে না মাটিদস্যুদের তাণ্ডব 
বগুড়ার খলিসাকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামের মাটি তোলার সেই স্থানের একাংশ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টানা আট মাস ধরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় এক গ্রাম থেকে কৃষি জমির মাটি লুট করা হচ্ছে। দিনের আলো নিভে গেলেই সেখানে শুরু হয় মাটিদস্যুদের তাণ্ডব। চলে পরদিন ভোর পর্যন্ত।

এর আগে, ডেইলি বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশের পর কৃষিজমির মাটি তোলা বন্ধে ইটভাটাগুলোর কার্যকলাপ পর্যালোচনা সভা ডেকেছিলেন ইউএনও। কিন্তু সেই সভার পরেও ঐ উপজেলার কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি তোলা আজও বন্ধ হয়নি। 

গত ১১ জানুয়ারি ইউএনওর কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, গত ৫ জানুয়ারি ইউএনও স্বাক্ষরিত ঐ চিঠি ইস্যু করা হয়।

Advertisement

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার মাঝিড়া ও খোট্টাপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত ইটভাটার মাটি সংগ্রহে অনিয়মের বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। যা প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। এমন অবস্থায় উপজেলায় অবস্থিত ইটভাটাগুলোর কার্যকলাপ পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ‘অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে কৃষিজমি’ও চলতি বছরের গত ৩ জানুয়ারি ‘মাটিদস্যুদের’ দখলে এক গ্রাম-শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে ডেইলি বাংলাদেশ। প্রকাশিক সংবাদ দুটিতে শাজাহানপুর উপজেলার অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটায় কৃষিজমির উর্বর মাটি পুড়ে ইট প্রস্তুত করার বিষয় উল্লেখ করা হয়।

শাজাহানপুর থানা থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে উপজেলার খলিসাকান্দি মধ্যপাড়া গ্রাম। সেই গ্রামেই টানা আট মাস ধরে অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে মাটি তোলা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রামটিতে কৃষিজমির মাটি উত্তোলন করছেন একই উপজেলার মাঝিড়া ইউপির সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান মো. নূরুজ্জামান।  তার সহযোগীদের উপস্থিতিতে সেখানে মাটি তোলা হয়। কৃষকেরা নিজেই মাটিদস্যুদের হাতে জমি তুলে দিতে বাধ্য হলেও ভয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন না।

স্থানীয়রা বলছেন, ২০১৯ সালে খলিসাকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামে ৪৪ শতক কৃষিজমি থেকে প্রথম মাটি তোলা শুরু করেন নূরুজ্জামান। মাঝে মধ্যে বন্ধও ছিল ওই পয়েন্ট। পরে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে ফের নতুন করে মাটি তোলা শুরু হয় সেখানে। ২০২৩ সালের জুন মাসে এসে সেখানে জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০ বিঘারও বেশি। প্রতিদিন রাত থেকে ভোর পর্যন্ত অ্যাসকেভেটর দিয়ে মাটি তোলা হয়। সেই মাটি ট্রাকে করে পাঠানো হয় ইটভাটায়।

নূরুজ্জামানের সহযোগী খলিসাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান খোকন মাটি তোলার ঐ স্থান দেখভাল করেন।

তবে জানতে চাইলে নূরুজ্জামান ডেইলি বাংলাদেশকে বরাবরই বলেছেন খলিসাকান্দি গ্রামের মাটি তোলার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাটির ওই পয়েন্ট দেখাশোনা করেন সাইদুর রহমান খোকনই। তিনি নূরুজ্জামানের সহযোগী। নূরুজ্জামানের হয়েই সেখানে কাজ করছেন খোকন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খলিসাকান্দি গ্রামের একাধিক বাসিন্দা বলেন, নূরুজ্জামান শুরু থেকেই সেখানে মাটি তুলে আসছেন। তার সহযোগী খোকন মাটি তোলার ঐ স্থান দেখাশোনা করেন। অনেক কৃষকের জমি দখলে নিয়ে তারা মাটি বিক্রি করেছেন। পরে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে তাদের কাছে জমি বিক্রি করেন। তবে জীবন হারানোর ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ করছেন না।

জানতে চাইলে শাজাহানপুরের এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি) শানজিদা মুস্তারী বলেন, খলিসাকান্দি গ্রামে অবৈধ মাটি তোলা কেন বন্ধ হচ্ছে তা আপনার-আমার জানা আছে। এরপরেও আমরা চেষ্টা করছি। 

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, খলিসাকান্দি গ্রামে মাটি তোলা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদা খানম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, থানা পুলিশকে বলা হয়েছে মাটি তোলার ঘটনায় নিয়মিত মামলা করতে। আর আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

শাজাহানপুর থানার ওসি মো. আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, খলিসাকান্দি গ্রামে মাটি তোলার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী কারো অভিযোগ পেলে তৎক্ষণাৎ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ:  বগুড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!