ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

খাটের নিচে মিলল হাতির দাঁত-হরিণের চামড়া

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:১৯, ২৭ মে ২০২৩
খাটের নিচে মিলল হাতির দাঁত-হরিণের চামড়া
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে কোটি টাকা মূল্যের বন্যহাতির দাঁত ও হরিণের চামড়াসহ মো. আব্দুল মালেক নামে একজনকে আটক করেছে র‍্যাব।

শনিবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার। এর আগে, শুক্রবার রাতে  নগরের পাঁচলাইশ থানার শুলকবহর এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত মো. আব্দুল মালেক মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দীতেশ্বর এলাকার আব্দুল আলীর ছেলে।

র‍্যাব জানায়, শুলকবহর এলাকার একটি বাড়ির তৃতীয় তলার কক্ষে বন্যহাতির দাঁত ও হরিণের চামড়া বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুতের তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে সেখানে অভিযানে যায় র‍্যাব। ঐ সময় র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে মো. আব্দুল মালেককে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে শয়নকক্ষের খাটের নিচ থেকে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় থাকা চারটি হাতির দাঁত, বিভিন্ন আকারের ২০টি হাতির দাঁতের খণ্ডাংশ ও একটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বন্যপ্রাণীর বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে তা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চড়া দামে বিক্রি করে আসছেন আব্দুল মালেক। উদ্ধারকৃত হাতির দাঁত, দাঁতের খণ্ডাংশ ও হরিণের চামড়ার মূল্য আনুমানিক এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

র‍্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক নুরুল আবছার বলেন, আব্দুল মালেক মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। ১৯৭৬ সাল থেকে বাবার সঙ্গে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এলাকায় হাতির দেখভাল করতে আসতেন তিনি। তার বাবার কয়েকটি হাতি ছিল। ১৯৯৮ সালে বাবা মারা গেলে হাতির ব্যবসা দেখভাল করার জন্য ছয় বছর বাঘাইছড়ির মরিশ্যা এলাকায় ছিলেন আব্দুল মালেক। তিনি একজন লাইসেন্সধারী হাতির পালক। ২০১০ সালের পরে লাইসেন্স প্রভিশন হলে তিনি পুনরায় লাইসেন্স করেন। তবে তিনি স্থায়ীভাবে বাঘাইছড়ি থাকতেন না। দু-চারদিন থেকে আবার মৌলভীবাজার চলে যেতেন। 

র‍্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবছার আরো বলেন, ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১২টি বৈধ হাতি রয়েছে আব্দুল মালেকের। তবে স্থানীয় তথ্যানুযায়ী তার আরো ২৪-২৫টি রেজিস্ট্রেশনবিহীন হাতি রয়েছে, যা দিয়ে তিনি বিয়ে বাড়িতে ভাড়াসহ পাহাড়ি এলাকায় গাছ টানার কাজ করেন। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এলাকা থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর চামড়া, হাতির দাঁত সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করে আসছেন আব্দুল মালেক। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!