আয়াত হত্যা: জবানবন্দিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ দিলেন আবিরের বন্ধু হাসিব
চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর শিশু আয়াত হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা দেড়মাস আগেই জানতেন আবিরের বন্ধু হাসিব। এমনকি তার কাছে অপহরণের পর হত্যাকাণ্ডের কথাও স্বীকার করেন আবির। কিন্তু এই তথ্য কাউকে জানাননি হাসিব। তবে এসব তথ্য জেনেও গোপন করার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে আবিরের বন্ধু হাসিবকে গ্রেফতার করে পিবিআই।
বুধবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য দেন হাসিব। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হাসিব নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট এলাকার ভাই ভাই হোটেলের কর্মী।
পিবিআই কর্মকর্তারা বলছেন, সময়মতো হত্যাকাণ্ডের তথ্য হাসিব সবাইকে জানালে নৃশংসভাবে লাশ টুকরো টুকরো করার সুযোগ পেতেন না ‘খুনি’ আবির। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মো. ইলিয়াস খান বলেন, আবির যখন আয়াতকে হত্যার পরিকল্পনা করে তখন বিষয়টি হাসিবকে জানিয়েছিল। তাকেও সঙ্গে থাকতে বলেছিল। কিন্তু সে থাকতে রাজি হয়নি। কিন্তু বিষয়টি কাউকে জানায়ওনি হাসিব।
তিনি আরো বলেন, আয়াতকে হত্যার পর লাশ আবিরের মায়ের বাসায় রাখার বিষয়টিও হাসিবকে জানায়, তখনো সে কাউকে বলেনি। আবিরের জবানবন্দিতে তার নাম আসায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হাসিব জানিয়েছে, সে আয়াতদের ভবনের পাশে ভাই ভাই হোটেলে মেসিয়ার (রেস্তোরাঁ কর্মী) হিসেবে কাজ করে। সে ছোট থেকে বড় হয়েছে ওই এলাকায়। তার মা-বাবা মারা গেছেন। ছোটবেলা থেকে আবিরের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব। আবির বয়সে বড় হওয়ায় তাকে ভাই বলে ডাকতো।
গত অক্টোবরের শুরুতে নেভি গেট এলাকার দেওয়ালে বসে আড্ডা দিচ্ছিল তারা। এ সময় আবির হাসিবকে বলে, মনজুর ভবনে মালিক মনজুর হোসেনের নাতনী আয়াতকে অপহরণ করে মেরে ফেলবে সে। এরপর মনজুর হোসেনের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা নিবে। তাকেও সঙ্গে থাকতে বলে। কিন্তু সে রাজি না হলে তখন কাউকে কিছু না জানাতে অনুরোধ করে আবির।
জবানবন্দিতে হাসিব আরো জানায়, ১৫ নভেম্বর বিকেলে হোটেলে কাজ করার সময় লোকজনকে ছুটোছুটি করতে দেখে জানতে পায়, আয়াতকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সন্ধ্যা ৬টার দিকে কাজ শেষ হলে হোটেল থেকে বের হয় হাসিব। আয়াতদের ভবনের বিপরীতে আইয়ুব ভবনের সামনে আবিরের সঙ্গে তার দেখা হয়। দুইজনে মিলে লেবার কলোনির দিকে আয়াতকে খুঁজতে যায়। এ সময় আবির আয়াতকে কিছু করেছে কিনা জানতে চায় হাসিব। আবির তাকে জানায়, আয়াতকে অপহরণ করে সে মেরে ফেলেছে। লাশ আকমল আলী রোডের পকেট গেট এলাকায় তার মায়ের বাসায় আছে। আয়াতের দাদার কাছে দুই একদিন পর ২০ লাখ টাকা চাইবে। টাকা নেয়ার সময় তাকেও থাকার প্রস্তাব দেয়। তাহলে তাকেও কিছু টাকা দিবে আবির। তাতে রাজী হয়নি হাসিব। কিন্তু এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলেওনি।
কাউকে না জানানো প্রসঙ্গে মো. হাসিব জবানবন্দিতে বলেছেন, 'আয়াতকে মেরে ফেলেছে শুনে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয়ে আমি কাউকে কিছু বলিনি। কারণ, আমার মনে হচ্ছিল, এখন এসব বললে মানুষ আমাকেও সন্দেহ করবে।
জানা যায়, গত ১৫ নভেম্বর নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট এলাকার ওয়াজ মুন্সীর নতুন বাড়ির বাসার সামনে থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু আয়াত। এ ঘটনায় ২৫ নভেম্বর তাদের ভাড়াটিয়া আজহারুল ইসলামের ছেলে আবির আলীকে গ্রেফতার করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে আয়াতের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য আয়াতকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ছয় টুকরো করে সাগরে ও খালে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে আবীর। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর খাল থেকে শিশু আয়াতের দুই পা ও খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পিবিআই।