ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

পরকীয়া সন্দেহে বাড়ি ডেকে নিয়ে যুবক ও গৃহবধূকে নির্যাতন

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৪:৪৭, ১৫ নভেম্বর ২০২২
পরকীয়া সন্দেহে বাড়ি ডেকে নিয়ে যুবক ও গৃহবধূকে নির্যাতন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পরকীয়া সন্দেহে এক যুবক ও গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে মহিপুর থানার সদর ইউপির নিজামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

বর্তমানে যুবক ইব্রাহীম ও তিন সন্তানের জননী গৃহবধূ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। 

গৃহবধূ জানান, ১০ বছর আগে ওই গ্রামের লেহাজ উদ্দিনের পুত্র জামাল উদ্দিনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তার। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে সন্দেহ করে অমানসিক নির্যাতন করতো জামাল। তবুও ধর্মভীরু পরিবারের সন্তান হওয়ায় নির্যাতন সহ্য করে সংসার করছিলেন তিনি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ৪০ বছর বয়সী পুরুষের সঙ্গে বিয়ে হলেও সংসার জীবন মেনে নিয়ে ১ ছেলে ও ২ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন এই গৃহবধূ। 

গৃহবধূর অভিযোগ, বাবার বাড়ি যাওয়া আসার সুবাদে স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক ইব্রাহিমের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ওই চালক ভালো মানুষ হওয়ায় তাকে নিয়েই বাবার বাড়ি যেতেন তিনি। কিন্তু নির্যাতনের রাতে পরিকল্পিত নাটক সাজিয়ে বাবার বাড়ি পাঠানোর কথা বলে ইব্রাহিমকে ডেকে নেয় তার স্বামী। পরে ইব্রাহিম বাড়ির দরজায় পৌঁছালে তাকে আচমকাই নির্যাতন শুরু করেন তার স্বামী এবং স্বামী বাড়ির লোকজন। 

ইব্রাহিমকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির মধ্যে নিয়ে নির্যাতন চালায়। একই সময় বেশ কয়েকজন পুরুষ নিয়ে গৃহবধূকেও অমানসিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ তার। 

ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক ইব্রাহিম জানান, আমি কিছু বুঝে উঠতেই পারিনি। ফোন দিয়ে ডেকে নেয়ার পর হঠাৎই আমাকে পেটাতে শুরু করে। ছিনিয়ে নেয়া হয় মানিব্যাগ, মোবাইল, মোটরসাইকেল। তার অভিযোগ, প্রায় দুইঘণ্টাব্যাপী নির্যাতন করে বাশার, আফজাল, শহীদুল, শাহীনসহ আরো বেশ কয়েকজন তার কাছ থেকে আদায় করা নেয় স্বীকারোক্তি। 

তিনি জানান, তার যৌনাঙ্গে নির্যাতন করা হলে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। পরে তাকে এক নারী ইউপি সদস্য উদ্ধার করে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

 গৃহবধূর স্বামী জামাল হোসেন জানান, বেশ কিছুদিন যাবৎ ফোনে কথা বলতো তার স্ত্রী। ওইদিন ইব্রাহিমের সঙ্গে বাড়ির উঠানে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে দেখে রাগ সামলাতে পারিনি। দুজনকে সামান্য মারধর করেছি। কিন্তু রাস্তার মানুষ এসে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করেছেন। আমি মারিনি। 

কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রনি জানান, ইব্রাহিমের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর মধ্যে মুখমণ্ডলে এবং পেটে গুরুতর আঘাতের জখম রয়েছে।  

মহিপুর থানার ওসি খন্দকার আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। দ্রুতই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!