ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও ৩ সন্তানের জনক

মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২৯, ৩১ অক্টোবর ২০২২
প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও ৩ সন্তানের জনক
ছবি: সংগৃহীত

তিন পরিবারকে পথে বসিয়ে শিশুসন্তানসহ প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন তিন সন্তানের জনক কালু হোসেন। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, করমদী গ্রামের নজিমুদ্দীনের ছেলে কালু হোসেন ২৫ বছর আগে পার্শ্ববর্তী কল্যাণপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকার লাইলী খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর শ্বশুরের দেওয়া জমিতেই ঘর বানিয়ে থেকে যান কালু হোসেন। তার ২ মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও এখনো ছোট মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে তার। তিন সন্তানের জনক কালু হোসেন একই গ্রামের কাতার প্রবাসী রহিদুল ইসলামের স্ত্রী এক সন্তানের জননী শুকিলা খাতুনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। ১২ অক্টোবর তারা অজানার পথে পাড়ি জমিয়েছেন।

শুকিলা খাতুনের ভাসুর নাজিমুদ্দীন বলেন, আমার ভাই রহিদুল কাতার প্রবাসী। সেখান থেকে পাঠানো সাড়ে ৫ লাখ টাকা, ৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন তার পরকীয়া স্ত্রী। তিনি বলেন, টাকা ও স্বর্ণালংকার আমাদের কাছে বিষয় নয়, ৪ বছর ২ মাস বয়সী শিশু মুস্তাকিমকে তারা হত্যা করতে পারে। প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করেছি। মামলার পর তিনি মোবাইল ফোনে আমাকে নানাভাবে হুমকী দিচ্ছেন। মামলা তুলে না নিলে তাদের কাছে থাকা ভাতিজা মুস্তাকিমকে হত্যা করবে বলেও হুমকী দিচ্ছে।

এদিকে কালু হোসেনের স্ত্রী লাইলী খাতুন স্বামী ও পরকীয়া শুকিলা খাতুনের নামে থানায় অভিযোগ করেছেন। 

লাইলী খাতুন বলেন, আমার স্বামী প্রায় ২ বছরে ধরে প্রবাসীর স্ত্রী শুকিলা খাতুনের সঙ্গে পরকীয়া করে আসছে। এই দুই বছরে সে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। আমার মায়ের নামে তিনি ২ লাখ টাকা এনজিও’র কাছ থেকে তুলে নিয়ে আমাকেও বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। এখন আমার ভাইয়ের বোঝা হয়ে আছি। এনজিওর লোকজন আমার বাড়িতে আসছে টাকা নিতে। 

তিনি বলেন, ছোট একটা ছেলে আর মেয়েকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছি। আমার স্বামী কালু হোসেন ও তার পরকীয়া প্রেমিকার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করছি।

এদিকে শুকিলা খাতুনের দিন মজুর বাবা গোলাম হোসেন বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে মেয়েটাকে ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিয়েছিলাম। তার স্বামী এখন বিদেশ আছে। তার কোনো কিছুর অভাব নেই। আমার কাছ থেকে সমিতি থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা তুলে নিয়ে গেছে সে। অভিযুক্ত কালু হোসেনের নামে থানায় মামলা করেছি। আমার মেয়ের সংসার ভাঙার জন্য কালু হোসেনের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কাওছার আলী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। ছোট শিশুটি তাদের কাছে রয়েছে। কালু হোসেনেরও তিনটি সন্তান রয়েছে। আমরা স্থানীয়ভাবে তাদের খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছি। তাদের পেলে বিষয়টি নিয়ে বসে একটা সমাধানে আসা হবে।

গাংনী থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, একটা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!