ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বরের হাত ধোয়ানোর বকশিশ নিয়ে সংঘর্ষ, বিয়ে পণ্ড

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:২২, ১৮ অক্টোবর ২০২২
বরের হাত ধোয়ানোর বকশিশ নিয়ে সংঘর্ষ, বিয়ে পণ্ড
বরের হাত ধোয়ানোর বকশিশ নিয়ে সংঘর্ষ, বিয়ে পণ্ড

সাদেক হোসেনের সঙ্গে সোনিয়া আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ের দিন ধার্য ছিল গত রোবাবর। দুপুরের পর কনের বাড়িতে যায় বরযাত্রী। এ সময় গেটের সালামি নিয়ে প্রথমে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। পরে খাওয়া শেষে বরের হাত ধোয়ানোর টাকা নিয়ে আবারো হয় কথা কাটাকাটি। একপর্যায়ে দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বরপক্ষের ১৫-২০ জন ও কনেপক্ষের ৮-১০ জন আহত হন। আহতদের দেবিদ্বার ও মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। পরে বিয়ে সম্পন্ন না করেই ফিরে যান বরযাত্রী।

ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৮ নম্বর ছালিয়াকান্দি ইউপির নেয়ামতকান্দি গ্রামের আমির হোসেন মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন হাজী বাড়িতে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। 

কনের বড় ভাই  বলেন, বরপক্ষ ১৫০ জন বরযাত্রী নিয়ে আসার কথা থাকলেও আসেন ১৬০ জন। তাদের খাওয়া শেষ করার পর বরের হাত ধোয়ার বকশিশ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বরপক্ষের লোকজন কনেপক্ষের লোকদের গালাগলি করেন এবং মেয়েদের মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। এ অবস্থায় কনেপক্ষের মুরুব্বিরা বরপক্ষকে শান্ত করতে গেলে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। এতে কনেসহ ৮-১০ জন আহত হন। বরপক্ষের লোকজন কনের কক্ষে ঢুকে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছেন।

তবে বরের ভাই জানান, বিয়ে বাড়ির গেটে আসার পর বকশিশের জন্য চাপ দেন কনেপক্ষের লোকজন। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত ৫০০ টাকা না দেওয়ায় কনেপক্ষের লোকজন গেটের চেয়ার-টেবিল ছুড়ে ফেলে দেন। বরযাত্রী ১৩০ জন যাওয়ার কথা থাকলেও ১২০ জন গিয়েছি। তারপরও বরপক্ষের লোকদের খাবার দিতে পারেনি। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বরের শেরওয়ানি ছিঁড়ে ফেলে তারা। এরপর বরপক্ষের লোকদের ওপর হামলা চালায়। থামাতে গিয়ে মারধরেও অচেতন হয়ে পড়েন বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার সকালে মুরাদনগর থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, বর ও কনেপক্ষের সংঘর্ষের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!