ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

জামালপুরে একমাসে ২০ ট্রান্সফর্মার চুরি

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:০১, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
জামালপুরে একমাসে ২০ ট্রান্সফর্মার চুরি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুর সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নে গত একমাসে কমপক্ষে ২০টি পল্লীবিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার চুরি হয়েছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে সেচ কাজে। এ বিষয়ে জামালপুর জেলা প্রশাসক, জামালপুর সদর থানায় এবং পল্লীবিদ্যুতের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, জামালপুর সদরের ঘোড়াধাপ ইউপির গোপালপুর গ্রামস্থ মোহাম্মদ শাহজাহানের রাইচমিল ও ‘স’ মিলের ১০ কেভির দুটি, মির্জাপুর গ্রামের মাহবুল্লাহ মেননের রাইচ মিলের ১৫ কেভির ৩টি, হরিপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের কৃষি সেচ পাম্পের ১০ কেভির ৩টি, দখলপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের কৃষি সেচ পাম্পের ১০ কেভির একটি, ভারুয়াখালী গ্রামের তুষার তালুকদারের রাইচ মিলের ১০ কেভির ৩টি, ইটাইল ইউপির কাতলশা গ্রামের ইউনুছ আলীর কৃষি সেচ পাম্পের একটি, দমদমা গ্রামের বোরহান উদ্দিনের রাইচ মিলের ১০ কেভির ৩টি, রানাগাছা ইউনিয়নের কানিল গ্রামের গোলাম উদ্দিনের কৃষি সেচ পাম্পের ১০ কেভির একটি, আলামিনের কৃষি সেচ পাম্পের ৫ কেভির একটি, শহিদুল ইসলামের কৃষি সেচ পাম্পের ৫ কেভির একটি ট্রান্সফর্মার চুরি হয়েছে।

গ্রাহকরা জানায়, রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ একটি চক্র পিকআপ ভ্যান নিয়ে ট্রান্সফর্মার চুরি করতে আসে। সংঘবদ্ধ ওই চক্রটি রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে ট্রান্সফর্মার চুরি করছে। আবার সংঘবদ্ধ চক্রটি এতোই দক্ষ তারা কোনো কোনো সময় বিদ্যুৎ চালু অবস্থায় বৈদ্যুতিক খুঁটি বেয়ে উপরে উঠে ট্রান্সফর্মার খুলে নিচে নামিয়ে ফেলে। পরে গাড়িতে তুলে পালিয়ে যায়।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এভাবে ট্রান্সফর্মার চুরি হওয়ায় রাইচ মিল, ‘স’ মিল, সেচ পাম্প, আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চুরির পর নতুন ট্রান্সফর্মার পেতে বেশ সময় লেগে যায়। এতে সময়, অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে।

গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, আমি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির একজন গ্রাহক। গোপালপুর বাজারে সিয়াম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি রাইচ মিল ও মেসার্স সিয়াম এন্টারপ্রাইজ নামে অপর আরেকটি স’মিল রয়েছে। আমার প্রতিষ্ঠানের পাশের খুঁটিতে ১০ কেভির দুটি ট্রান্সফর্মার রয়েছে। গত ২৭ আগস্ট রাতের বেলায় কে বা কারা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দুটি ট্রান্সফর্মার চুরি করে পালিয়েছে। পরদিন সকালে আমি আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখতে পাই খুঁটির নিচে তেল পড়ে আছে এবং উপরে ট্রান্সফর্মার ভিতরের যন্ত্রাংশ নেই। পুরো বিষয়টি আমি পল্লীবিদ্যুৎ অফিসকে অবহিত করেছি। গত ৪ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে এসব ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, ঘন ঘন ট্রান্সফর্মার চুরি হয়ে যাওয়ায় সেচ কাজে চরম ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানান আমন চাষিরা।

পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির নান্দিনা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শামীম খান বলেন, ট্রান্সফর্মার চুরির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট লিখিতভাবে জানিয়েছে।

তিনি আরো জানান, ট্রান্সফর্মার যাতে চুরি না হয় সেজন্য সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমরা ইতোপূর্বে প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করেছি। বাড়িতে বাড়িতে উঠান বৈঠক করেছি। রাতে পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও চোরের দল সুযোগ বুঝে ট্রান্সফর্মার চুরি করে নিচ্ছে যাচ্ছে। ট্রান্সফর্মার চোর সম্পর্কে গ্রাহকদের আরো সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!