স্বামীকে দাফনের ৩৪ দিন পর মামলা করল স্ত্রী
খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে আল-আমিন নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের ৩৪ দিন পর হত্যা মামলা করেছেন স্ত্রী।
মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ির কোর্ট ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর হোসেন জানান। এর আগে গত ২৫ আগস্ট আদালতে মামলা করেন আল-আমিনের স্ত্রী সোনালী আক্তার।
খাগড়াছড়ির কোর্ট ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ২৫ আগস্ট আমলী আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ হোসেন ওই নারীর অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। এরপর এফআইআর হিসেবে গ্রহণ ও তদন্ত করার জন্য লক্ষ্মীছড়ি থানার ওসি নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার মামলাটি রেকর্ড করে আদালতকে অবহিত করেছে লক্ষ্মীছড়ি থানা পুলিশ।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে লক্ষ্মীছড়ি বাজার এলাকার মৃত শফিউল আলমের ছেলে আল-আমিনের সঙ্গে সোনালী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে আল আমিনের মা, সৎ বাবা ও সৎ দুই ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করে আসছিলেন। বাড়ি ভিটের জমি আল আমিনের আপন বাবা শফিউল আলমের নামে রেকর্ড ছিল। ওই জমিতে কয়েক মাস ধরে বসবাসকালে বাবার জায়গা-জমি থেকে আল-আমিনকে বঞ্চিত করার জন্য সৎ বাবা ও দুই ভাই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তারা চট্টগ্রাম শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। মাকে দেখার জন্য আল-আমিন মাঝে মাঝে চট্টগ্রাম থেকে লক্ষ্মীছড়িতে আসা-যাওয়া করতেন।
ঘটনার কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম থেকে লক্ষ্মীছড়ি বাজারে নিজ বাড়িতে যান আল-আমিন। তিনি সব সময় মোবাইলের মাধ্যমে সোনালীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ১৯ জুলাই কল করে আল আমিন স্ত্রীকে জানান, তার সৎ বাবা শাহ আলম প্রকাশ শফি আলম, সৎ ভাই রুবেল, মাসুদ ও সৎ চাচা শাহজাহানের সঙ্গে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ঝগড়া হয়েছে।
সোনালী আক্তার বলেন, ‘২০ জুলাই তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করে পাইনি। পরে ২১ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে জানতে পারি, আমার স্বামীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরদিন ২১ জুলাই আমাকে না জানিয়ে ধর্মীয় রীতিনীতি না মেনে তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাফন করা হয়। খবর পেয়ে ২২ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লক্ষ্মীছড়ি বাজারের বাসায় আসি। আসামিদের কাছে জানতে চাই, কীভাবে আমার স্বামী মারা গেলেন? তারা একেকজন একেক ধরনের কথা বলতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এবং মরদেহের ছবি দেখে বুঝতে পারি, আমার স্বামীকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। কারণ গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস দেওয়া এবং গলার মাঝে গামছার তিনটি গিট দেওয়া, পা মাটিতে লেগে ছিল এবং পা পাশের খাট স্পর্শ করে ছিল। পরে আদালতে মামলা করেছি।’
লক্ষ্মীছড়ি থানার ওসি মিনহাজ মাহমুদ ভূইয়া জানান, ২০ জুলাই আল-আমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন এবং পরিবারের কেউ তখন মামলা করেননি। তবে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত চলছে।