ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

টঙ্গীতে মোবাইল নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ৪

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১৫, ২২ আগস্ট ২০২২
টঙ্গীতে মোবাইল নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ৪
সুমন মাহমুদ পাটোয়ারি ওরফে তানন-ফাইল ফটো

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে মোবাইল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলার অপর এক যুবক আহত হয়েছে। রোববার রাত টঙ্গীর সফিউদ্দিন কলেজ রোডের আউচপাড়া মেরিট স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন মাহমুদ পাটোয়ারি ওরফে তানন টঙ্গীর বড় দেওড়া ফকির মার্কেট এলাকার ফজলুল হক পাটোয়ারির ছেলে। তিনি এলাকায় ডিমের পাইকারি ব্যবসা করতেন। আহত যুবকের নাম সালাউদ্দিন তুহিন।

এ ঘটনার পর মধ্যরাতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় এক আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে দত্তপাড়া কসাইবাড়ি রেলগেট এলাকায় পুলিশের গুলিতে একজন গুলিবিদ্ধ হন, আহত হন পুলিশের তিন সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ইসমাইল হোসেন, এরশাদনগর এলাকার গেদু মিয়ার ছেলে মোবারক হোসেন, দত্তপাড়া জহির মার্কেট এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও দত্তপাড়া সিনিয়র মাদ্রাসা এলাকার স্বপন মিয়ার ছেলে সাকিব। সোমবার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডিবি ও মিডিয়া) আবু সায়েম নয়ন জানান, একটি মোবাইল নিয়ে মারধরের জেরে টঙ্গীর আউচপাড়া মেরিট স্কুলের সামনে ২০-২৫ জনের একটি দল ছুরি দিয়ে কুপিয়ে সুমন মাহমুদ পাটোয়ারী ওরফে তানন ও তার সহযোগী সালাউদ্দিন তুহিনকে জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাননকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার ৪টি টিম এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দুইটি টিম অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা ইসমাইল হোসেনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরো জানান, প্রথমে মোবারককে গ্রেফতার করে দত্তপাড়া কসাইবাড়ি রেলগেট এলাকায় তার সহযোগীদের গ্রেফতার করতে অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় সেখানে তার সহযোগীরা মোবারককে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় মোবারক গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে ২টি ছোরা ও ১টি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানের সময় পুলিশের ৩ সদস্য আহত হয়েছেন। সিসি টিভির ফুটেজ দেখে অন্যদের শনাক্ত করা হয়েছে। সন্ত্রাসী ইসমাইলের সঙ্গে চলাফেরা করতো নিহত তানন। ইসমাইলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। সস্প্রতি মাদক ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেও ইসমাইলের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল তাননের বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!