ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

‘চিন্তা করো না, চাকরি করে তোমাকে খাওয়াব’

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৩৬, ৩০ জুলাই ২০২২
‘চিন্তা করো না, চাকরি করে তোমাকে খাওয়াব’
নিহত মারুফের নানী ও মা। ছবি:সংগৃহীত

ইকবাল হোসেন মারুফ। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ১০-১২ বছর আগে মারুফসহ তিন সন্তানকে ফেলে চলে যান বাবা আবদুল মাবুদ। এরপর থেকে নানির কাছেই বেড়ে ওঠে তারা। নানির অভাবের সংসার।

তবুও মারুফের লেখাপড়া বন্ধ হতে দেননি নানি নুর নাহার বেগম। আশা ছিল, লেখাপড়া শেষে একদিন বড় চাকরি করবেন মারুফ। আর সেদিনই দূর হবে নানি-নাতির কষ্টের দিন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না কারোই। নাতিকে হারিয়ে পাগলপ্রায় নানী। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর এস নজু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল তার।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ নিতেন আসেন মারুফের নানী ও মা। এ সময় হাসপাতালের বারান্দায় বিলাপ করে কথাগুলো বলছিলেন তারা। 

আহাজারি করতে করতে মারুফের মা বলেন, ১০-১২ বছর আগে সন্তানদের ফেলে চলে যান মারুফের বাবা। এরপর আর কোনোদিন খোঁজ নেননি। ওর নানি কষ্ট করে বড় করেছে, পড়ালেখার খরচ চালিয়েছে। আশা ছিল বড় হয়ে ছেলেটা চাকরি করবে। ওর নানিসহ আমাদের সবাইকে দেখবে। কিন্তু সব আশা শেষ হয়ে গেল।

নানি নুর নাহার বেগম বলেন, বাপে কোনো খবর রাখেনি। কষ্ট করে নাতিটারে বড় করছিলাম। এমন করে চলে যাবে, কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি। আমাদের সব আশা-ভরসা শেষ হয়ে গেল।

তিনি আরো বলেন, আমি সবসময় তাকে লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে বলতাম। সে বলত, নানি তুমি আমাকে নিয়ে চিন্তা করো না, লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করে তোমাকে খাওয়াব।

শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহানগর প্রভাতী ট্রেন পর্যটকবাহী মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মারুফসহ মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হন। এছাড়াও আহত হন আরো ছয়জন। বর্তমানে তারা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

হতাহতরা সবাই হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার আরঅ্যান্ডজে প্রাইভেট কেয়ার নামে একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক-শিক্ষার্থী। শুক্রবার সকালে ছাত্র-শিক্ষকসহ ১৭ জন মিলে গিয়েছিলেন খৈয়াছড়া ঝরণা দেখতে। সেখান থেকে ফেরার পথেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর ওই এলাকায় দায়িত্বরত গেটম্যান মো. সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!