ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

চট্টগ্রামে ৪ লাখ চামড়া সংগ্রহের টার্গেট

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫০, ৯ জুলাই ২০২২
চট্টগ্রামে ৪ লাখ চামড়া সংগ্রহের টার্গেট
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এবারের কোরবানির ঈদে শহর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে চার লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন চট্টগ্রামের আড়তদাররা। নিজ উদ্যোগে ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এসব চামড়া সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে একসময় ২০টির বেশি ট্যানারি থাকলেও এখন রয়েছে শুধুমাত্র দুটি। যার মধ্যে পরিবেশ অধিদফতরের নির্দেশে একটি বন্ধ রয়েছে। অপরটির কাছে ১০ থেকে ১২ শতাংশ চামড়া বিক্রি করেন আড়তদাররা। বাকি চামড়া বিক্রির জন্য ঢাকার ট্যানারির ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে অনেক সময় প্রত্যাশিত মূল্য পাওয়া যায় না। ফলে গুনতে হয় লোকসান। 

আড়তদাররা জানিয়েছেন, এ বছর চার লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর যা ছিল সাড়ে তিন লাখ। এর বিপরীতে দুই লাখ চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর আগে ২০২০ সালে চার লাখ ও ২০১৯ সালে সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল।

চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির উপদেষ্টা খোরশেদ আলম বলেন, সরকার চামড়ার যে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়, তা লবণযুক্ত। চট্টগ্রামের চামড়াগুলো ২০ থেকে ২২ ফুট পর্যন্ত ধরা হয়। লবণ-কর্মচারী ও অন্যান্য মিলিয়ে চামড়াপ্রতি আমাদের ২শ’ টাকা খরচ পড়ে। এর মধ্যে আবার ট্যানারি মালিকরা চামড়ার কিছু অংশ বাদ দিয়ে কেনেন। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সেটি বোঝেন না। তারা পুরো দাম চান। তাই তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- গ্রাম থেকে চামড়া আনতে দেরি হলে লবণ দিতে হবে। চামড়া আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটি রক্ষা করা জরুরি।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন বলেন, আগে আমাদের পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকতো। লবণের দাম ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে ন্যায্যদাম না পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা কমে এসেছে। এবার তিন থেকে চার লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে ৬শ’ টাকায় কেনা লবণ এখন এক হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। চামড়াপ্রতি সাত থেকে আট কেজি লবণ লাগে। গুদাম ভাড়া-মজুরি মিলিয়ে ২০ ফুটের একটি চামড়ার পেছনে ২শ’ টাকার বেশি খরচ পড়ে। সে হিসাবে প্রতি বর্গফুটে খরচ পড়ে ১০ থেকে ১২ টাকা।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মুসলিম উদ্দিন বলেন, এখন প্রচুর গরম পড়ছে। এ অবস্থায় চামড়া দ্রুত নষ্ট হয়। লোকসান এড়াতে নিজেরাই চামড়ায় লবণ দিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানাচ্ছি।

সমিতির সদস্য মাসুদ হোসেন বলেন, কোরবানি ঘনিয়ে আসতেই লবণের দাম বেড়ে গেছে। রোজায় ৭৫ কেজি ওজনের এক বস্তা লবণের দাম ছিল ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা। এখন সেটি বেড়ে হয়েছে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা। প্রতি চামড়ায় ১০ কেজি লবণ প্রয়োজন হয়। সে হিসাবে এক বস্তা লবণ ৭-৮টি চামড়ায় দেওয়া যায়। এখন লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাঁচা চামড়ায় ব্যয় বাড়বে। বিষয়টি ভোক্তা অধিকারের নজরে আনা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রামে একসময় ২২-২৩টি ট্যানারি ছিল। এখন আছে মাত্র একটি। ফলে এখন চামড়া বিক্রির জন্য ঢাকার ট্যানারির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। চামড়া খাতের দুর্বল দিক চিহ্নিত করে সঠিক পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানাই।

এ বছর চামড়ার নির্ধারিত দর গত বছরের চেয়ে বেশি। এবার ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৪৭ থেকে ৫২ টাকা দরে, যা গত বছর ছিল প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আর ঢাকার বাইরে ধরা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৪ টাকা, যা গত বছর ছিল ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা।

এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা ও বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!