বাবার খোঁজে অবুঝ শিশু ফাইজা, দিল ডিএনএ
১১ মাস বয়স তার। নাম ফাইজা রহমান। পৃথিবী কি তাও এখনো বোধগম্য হয়নি তার। শুধু বা…বাবা…বা..বা.. ডাকতে শিখেছে। এই যে তার মুখে বা..বা ধ্বনি, সেটাও বুঝতে শিখেনি এই অবুঝ শিশু। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের পর থেকে আবদুস সোবহান রহমানের খোঁজ নেই। এই আবদুস রহমান ফাইজার বাবা।
সব হাসপাতাল খুঁজেও স্বজনরা আবদুস সোবহানকে সন্ধান করতে পারেননি। পরে মা ইশপাহান সুলতানার কোলে করে ডিএনএ দিতে এসেছে ফাইজা রহমান। আবদুস সোবহান রহমান চট্টগ্রামের বাঁশখালীর শেখেরখীল এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর আইসিটি সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রে ফাইজা রহমানের নাক থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভাইয়ের লাশ শনাক্তে বোন উম্মে কুলসুমও ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন।
মেয়েকে কোলে নিয়ে ইশপাহান সুলতানা বলেন, শনিবার রাত ১১টার দিকে সোবহানের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভিডিও কল করে আগুন দেখিয়েছে। সেখান থেকে তাকে বারবার বলেছি বের হয়ে যেতে, সে বলেছে কোনো কিছু হবে না। প্রথমে আমাকে আগুন দেখিয়েছে, এরপর আমার শাশুড়িকে। পরে বোনকে আগুন দেখানোর সময় বিকট শব্দের একটি আওয়াজ শুনতে পাই। এরপর তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই।
তিনি আরো বলেন, রোববার চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল খুঁজেছি, কোথাও পাইনি। তাই একমাত্র মেয়েকে ডিএনএ দিতে হাসপাতালে এসেছি। মেয়ের ডিএনএ দিয়েছি। সরকারের কাছে কোনো চাওয়া নেই। সোবহানকে যেন এক নজর শেষ দেখা দেখতে পারি।
তিনি বলেন, মেয়ে শুধু বা..বা-বা..বা ডাকতে পারতো। মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে বাবাকে দেখলে বা..বা-বা..বা ডাকতো। এখন তো আমাদের কেউ রইল না।
উম্মে কুলসুম বলেন, শনিবার রাত থেকেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সব হাসপাতালে খুঁজেছি। প্রত্যেকটা বেডে গিয়ে ভাইকে খুঁজেছি, পাইনি। মর্গে একটি লাশ ভাইয়ের বলে মনে হয়েছে। কিন্তু আরেকটি পরিবারও লাশটি তাদের স্বজন বলে দাবি করছে। তাই বাধ্য হয়ে ১১ মাসের ফাইজাকে নিয়ে আমার ডিএনএ দিলাম। এখন অপেক্ষা কখন ভাইকে শেষবারের মতো দেখবো।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি কেয়ারের সামনে নমুনা সংগ্রহ করছে সিআইডি। সিআইডির ফরেনসিক সেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যাদের মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি, তাদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ নমুনা সংগহ করা হচ্ছে।
বাবা-মা, ভাই-বোন বা ছেলে-মেয়ের যে কোনো দু'জনের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। মরদেহের সঙ্গে ডিএনএ বিশ্লেষণ করে পরিচয় শনাক্ত করা হবে। ডিএনএ বিশ্লেষণ করতে এক মাসের মতো সময় লাগতে পারে।