কুষ্টিয়ায় ট্রিপল মার্ডার: তিনজনের আমৃত্যু, যাবজ্জীবন ৮
কুষ্টিয়ায় আলোচিত তিন খুনের মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ মামলায় খালাস পেয়েছেন আরো ১১ জন।
মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
আমৃত্যু দণ্ডিতরা হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পলুতা ভাঙ্গা গ্রামের আসকর সরদারের ছেলে ফারুক সরদার, পশ্চিম আবদালপুর গ্রামের ইসারত আলী রেজার ছেলে কালু ও কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার মজনুর ছেলে রোহান।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ঝিনাইদহর হরিনাকুণ্ডু উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকার খোরশেদ মণ্ডলের ছেলে ফারুক মণ্ডল, একই উপজেলার ভায়না গ্রামের জাবেদ আলীর ছেলে আলতাফ মেম্বার, জলিল শেখের ছেলে লিয়াকত, এছেম শেখের ছেলে মনোয়ার হোসেন, করিমপুর গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে জমির উদ্দিন, আনসার শেখের ছেলে আকাউদ্দিন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খোর্দবাখাইল গ্রামের আবু বক্করের ছেলে নুরুল ও মাঝপাড়া এলাকার ওম্মাদ মণ্ডলের ছেলে খাকচার মণ্ডল।
খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মোমিন, কাইয়ুম, সজিব, আকতার, ইব্রাহিম, আমিরুল, আছরোফ, শামিম, রফিকুল, বাবুল ও তুজাম হোসেন।
আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী রায় জানান, ২০০৯ সালের ৮ আগস্ট কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার কাইয়ুম সাখাওয়াতী নিখোঁজ হন। ১০ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের সাদ্দাম বাজার এলাকায় গণপূর্ত অফিসের গেটের সামনে কাইয়ুম সাখাওয়াতী, আইয়ুব আলী ও শামসুজ্জামানের খণ্ডিত মাথা পাওয়া যায়। এসব মাথা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। সেদিন ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে মাথা তিনটি পাঠানো হয়। একই দিন মাথাবিহীন তিনটি মরদেহ কুষ্টিয়ার ইবি থানার সোনাইডাঙ্গা এলাকার একটি পটলক্ষেত থেকে উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে ইবি থানায় মামলা করেন নিহত কাইয়ুম সাখাওয়াতীর ভাই আব্দুল হাই।
তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর আদালত এ মামলায় ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে ১০ মে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে।
পিপি বলেন, আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তিনজনকে আমৃত্যু ও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ সময় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ১১ জনকে খালাস দেয়। আসামিদের সবাইকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।