আড়াই যুগ ধরে জব্বারের বলীখেলার রেফারি আবদুল মালেক
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা সোমবার। এ দিন বিকেল থেকে শুরু হবে এ খেলা। এর আগে আজ থেকে বলীখেলাকে ঘিরে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা। লালদীঘি মাঠের আশপাশের দেড় বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসা এ মেলা চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত।
বলীখেলার এবারের ১১৩ তম আসরে রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মালেক। যিনি ৩২ বছর ধরে এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
আবদুল মালেক বলেন, আমি ফুটবল খেলোয়াড় ছিলাম। বদরপাতির আবদুল হামিদ আর আমি, দুজন মিলে ব্রাদার্স ইউনিয়ন পরিচালনা করতাম। সেটা তখন বদরপাতির টিম ছিল। হামিদ সাহেব, নজরুল ইসলাম লেদু, ফয়েজ ও মামুনরা আমাকে বলীখেলায় নিয়ে যান। ১৯৮৯ সালে সহকারী রেফারি হিসাবে বলীখেলা পরিচালনা শুরু করি। ফয়েজ উল্লাহর মৃত্যু ও আরেকজন লন্ডনে চলে গেলে আমার ওপর পড়ে রেফারির দায়িত্ব।
তিনি বলেন, জব্বারের বলীখেলা দিয়ে শুরুর পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বলীখেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেছি। বিমানবাহিনী, ঢাকা ও বগুড়ায় বলীখেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেছি। সিআরবিতে সাহাব উদ্দীনের বলীখেলায়ও শুরু থেকে আমি রেফারির দায়িত্ব পালন করেছি।
বলীখেলার পুরোনো স্মৃতিচারণ করে আবদুল মালেক বলেন, রামুর দিদার বলি ও বান্দরবানের একজন বলী যৌথ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য চেষ্টা করছিল। কেউ কাউকে পরাজিত করতে পারছিল না। ওই সময় সাবেক মেয়র মরহুম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এগিয়ে এলেন। তিনি এক থেকে একশ’ পর্যন্ত গুনলেন। এরপর তাদের দুজনকেই বহিষ্কার করলেন। পরে অন্য দুজন বলীকে নিয়ে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
রেফারির দায়িত্ব পালন করতে ভালো লাগে জানিয়ে সাবেক এ কাউন্সিলর বলেন, জব্বারের বলীখেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জব্বার মিয়ার নাতি শওকত আনোয়ার বাদল বলেছেন- আমাকে আমৃত্যু রেফারির দায়িত্ব পালন করতে হবে। রেফারির দায়িত্ব পালন করতে দেখে দেশ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন ফোন করেন, খুশি হন। আমারও ভালো লাগে।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবকদের উদ্বুদ্ধ করতে ১৯০৯ সালে স্থানীয় বদর পাতি এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর বলীখেলা চালু করেন। এরপর থেকে প্রতি বাংলা বছরের ১২ বৈশাখ লালদীঘি মাঠে এ খেলার আয়োজন করা হয়। ব্যবসায়ী আবদুল জব্বারের নামানুসারে খেলাটির নাম রাখা হয় ‘জব্বারের বলীখেলা’।
এবারের খেলায় ১০০ জন বলী অংশ নেবেন। প্রথম স্থান অধিকারী পাবেন ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ও ট্রফি।