সেই বিতর্কিত স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হচ্ছে
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শামসুন্নাহার তার ছেলের সঙ্গে ওই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে (১১) বিয়ে দিয়েছেন। তদন্তে এর সত্যতা পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম ভূইয়া।
তিনি বলেন, স্কুলশিক্ষিকা তার অবস্থান থেকে এমন কাজ করতে পারেন না। তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলছাত্রীর বিয়ে দিয়েছেন এটা চরম আইন লঙ্ঘন। আমরা ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। মঙ্গলবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কর্তৃক ওই শিক্ষিকার সাময়িক বরখাস্তের চিঠি আমাদের হাতে চলে আসবে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুমা আক্তারকে ঘটনা সরেজমিনে তদন্ত করতে পাঠান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুণ্ডু।
সরেজমিন তদন্তে অভিযুক্ত শিক্ষিকা শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুমা আক্তারের কাছে ঘটনা স্বীকার করেন এবং লিখিত বক্তব্য দেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২০ মার্চ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের ছোটশলুয়া গ্রামের ওই ছাত্রীর সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শামসুন্নাহারের ছেলে যদুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র আব্দুর রহমানের বিয়ে দেওয়া হয়।
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে নিজের ছেলের বাল্যবিবাহ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাড়ির অবস্থা খুব একটা ভালো না। বিশেষ করে আমার মায়ের খুব শরীর খারাপ। মায়ের ইচ্ছা নাতি ছেলের বউ দেখার। মায়ের ইচ্ছা পূরণ করার জন্যই ছেলের সঙ্গে ছাত্রীর বিয়ে দিয়েছি। তবে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়নি। বেগমপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ও বেগমপুর ইউনিয়নের কাজি মফিজুল ইসলাম ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে দিয়েছেন।