ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

রান্নাঘরে ঝুলছিল গৃহবধূর লাশ 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  
প্রকাশিত: ২০:৩২, ১০ মার্চ ২০২২
রান্নাঘরে ঝুলছিল গৃহবধূর লাশ 
রান্নাঘর থেকে আমেনা খাতুন নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নিজবাড়ির রান্নাঘর থেকে আমেনা খাতুন নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা পৌণে ১১টার দিকে উপজেলার চাপড়া ইউপির সাঁওতা গ্রাম থেকে ছেলে তৌফিক ও জা আর্জিনা লাশ উদ্ধার করে। নিহত আমেনা খাতুন ঐ গ্রামের ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেনের স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী।

পরে দুপুর ১২ টার দিকে পুলিশকে খবর দেয় স্বজনরা। পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে তিনি খাবার রান্নার জন্য রান্নাঘরে যান। পৌণে ১১ টার দিকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে তৌফিক বাড়িতে এসে মাকে ডাকাডাকি করে। একপর্যায়ে রান্নাঘরে গিয়ে দেখে কাঠের আড়ায় রশিতে ঝুলছে মা। দেখে চিৎকার করে উঠেন। পরে নিহতের জা আর্জিনা ও ছেলে তৌফিক লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ও স্বজনদের খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জানা গেছে, তিন সন্তানের জননী আমেনা খাতুন প্রায় ১০ বছর যাবৎ মানসিকরোগে ভুগছিলেন। বিভিন্ন স্থানে তার চিকিৎসা চলছিল। মাঝেমাঝেই আত্মহত্যার চেষ্টা করতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। 

নিহতের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে তৌফিক বলেন, বিকাশ এ্যাকাউন্ট খোলার জন্য বাজারে গিয়েছিলাম। বাড়িতে মাকে ডাকাডাকি করি। ডাকে সাড়া না দেওয়ায় খোঁজাখুঁজি শুরু করি। একপর্যায়ে রান্নাঘরের কাঠের আড়ায় রশিতে ঝুলতে দেখে চিৎকার করে উঠি। পরে চাচি আর্জিনার সঙ্গে মায়ের লাশ নিচে নামায়।

নিহতের জা আর্জিনা খাতুন বলেন, প্রায় ১০ বছর মত মানসিকরোগে ভুগছিলেন আমেনা। প্রায়ই আত্মহত্যার চেষ্টা করতেন। আজ পৌণে ১১ টার দিকে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে মনে হচ্ছে। 

নিহতের বাবা আব্দুস সাত্তার বলেন, মেয়ে অসুস্থ ছিল। বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করিয়েছি। হয়তো সে আত্মহত্যা করেছে। আমার কোনো অভিযোগ নেই।

চাপড়া ইউপি চেয়ারম্যানন এনামুল হক মঞ্জু বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, লাশ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয় স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি মানসিক রোগী ছিলেন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: কুষ্টিয়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!