জেলেদের চাল আত্মসাৎ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের কারাদণ্ড
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় জেলেদের চাল আত্মসাৎ করায় দুদকের করা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ চারজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে ৭০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালীর স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এএনএম মোর্শেদ আলম এ রায় প্রদান করেন।
আসামিরা হলেন, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মেহেরাজ উদ্দিন, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো.গোলাম ফারুক, নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য তাহেরা বেগম ও ছকিনা খাতুন শাহানারা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৬ মে হাতিয়া উপজেলার নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নে দরিদ্র ভিজিএফ জেলেদের চাল যথাযতভাবে বিতরণ না করে ৩১.১২ মেট্রিক চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগে হাতিয়া থানায় নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব ছিদ্দিক আহম্মেদ জুয়েল বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি তদন্ত করেন দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান।
আরো পড়ুন: মাদরাসা শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিঝুম দ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যানসহ অপর তিন আসামি জাটকা আহরণকারী হত-দরিদ্র ৩৮৯ জন জেলের জন্য মার্চ ২০১৬ হতে জুন ২০১৬ পর্যন্ত ৪ মাসে ১৬০ কেজি হারে বিতরণের জন্য মোট ৬২ দশমিক ২৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারা অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপজেলা কমিটির অনুমোদিত তালিকার দরিদ্র ভিজিএফ জেলেদের নামীয় চাল যথাযথভাবে বিতরণের দায়িত্বে থেকে কম পরিমাণে বিতরণ করেন। কিছু ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তদের নাম না দিয়ে ভুয়া মাস্টার রোল তৈরি ও স্বাক্ষর দাখিল করেন। তদন্তকালে সাক্ষীদের জবানবন্দি দ্বারা গড়ে অর্ধেক চাল বিতরণ না করার প্রমাণ পাওয়া যায়। তারা ৩১ দশমিক ১২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ না করে আত্মসাৎ করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ বিচার শেষে নোয়াখালীর স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এএনএম মোর্শেদ আলম আসামিদের সবাইকে চারটি ধারায় মোট ১০ বছরের সাজা ও ৭০ লাখ টাকা জরিমানা করে জেলহাজতে পাঠান।