ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

‘নারীর নেশায়’ ছুটে গিয়ে কাটা গলা নিয়ে হাসপাতালে ছটফট করছেন রবিউল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:০৮, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
‘নারীর নেশায়’ ছুটে গিয়ে কাটা গলা নিয়ে হাসপাতালে ছটফট করছেন রবিউল
ইনসেটে গ্রেফতার চার বন্ধু

বয়স ২০ এর গণ্ডি পেরোয়নি কারো। কেউ কাজ করেন কারখানায়, কেউ পরিবহনে, কেউবা আবার খাবারের হোটেলে। ঘনিষ্ঠ বন্ধু না হলেও মোটামুটি সখ্যতা রয়েছে নিজেদের মধ্যে। ফলে কার কিসে আসক্তি জানা রয়েছে প্রত্যেকের। আর সেই আসক্তির লোভ দেখিয়ে সমবয়সী এক বন্ধুকে ডেকে নিয়ে কেড়ে নেন মোবাইল ফোন ও টাকা।

তবে এতেও ক্ষান্ত হননি তারা। প্রমাণ মুছে ফেলতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে করা হয় হত্যাচেষ্টা। কাটা শ্বাসনালী নিয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রবিউল নামের ওই কিশোর।

শুক্রবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানার বোট ক্লাব সংলগ্ন কনটেইনার টার্মিনাল ফ্লাইওভারের ওপর এ ঘটনা ঘটে। এরপরই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একে একে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরি ও অটোরিকশা।

গ্রেফতারদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন- বাসের হেলপার শিপন, কারখানার শ্রমিক নাজমুল, আরিফ ও অটোচালক সাইফুল ইসলাম। এছাড়া জামশেদ ও সোহাগ নামে দুজন পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, শিপন, নাজমুল, আরিফ, সোহাগ ও জামশেদ বন্ধু। শিপনের পরিচিত ভুক্তভোগী রবিউল। রবিউলের কাছে থাকা একটি দামি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে চান শিপন। কিন্তু রবিউল তা দিতে রাজি হননি। শিপন জানেন- নারীর নেশা আছে রবিউলের। ফলে বন্ধুদের নিয়ে কৌশলে রবিউলের মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়ার ও ভাসমান পতিতাদের কাছে নিয়ে খদ্দেরের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করার পরিকল্পনা করেন শিপন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিনে নেন তিনটি ছুরিও।

পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার রাতে শিপনের নির্দেশে রবিউলকে ফোন করে নাজমুল জানান- জিনিস (খারাপ মেয়ে) আছে। এ কথা শুনে রাজি হয়ে যান রবিউল এবং নিজ বাসা থেকে বের হয়ে পাহাড়তলী থানার সাগরিকার বিটাক মোড়ে আসেন। ওই সময় অটোরিকশাচালক সাইফুলকে ফোন করে বিটাক মোড়ে আসতে বলেন শিপন। এরপর ছয়জনই একই অটোরিকশায় উঠে আউটার রিং রোড দিয়ে চলে যান হালিশহর চৌঁচালা এলাকায়।

সেখানে পৌঁছে অন্যদের উপস্থিতিতে রবিউলের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ কেড়ে নেন শিপন। ওই সময় অবস্থা বেগতিক দেখে কোনো ধরনের প্রতিবাদ করেননি রবিউল। এরপর অটোরিকশাটিতে করে সবাই চলে যান বড়পোল এলাকায়।

বড়পোল গিয়ে নেমে যেতে চাইলেও রবিউলকে নামতে দেননি অন্যরা। গাড়ি ঘুরিয়ে সবাই চলে যান পতেঙ্গা থানার বোট ক্লাব সংলগ্ন কনটেইনার টার্মিনাল ফ্লাইওভারের ওপর।

ফ্লাইওভারে অটোরিকশা থেকে নেমে যান সবাই। এরপরই শিপনের নির্দেশে রবিউলের হাত ধরে ফেলেন আরিফ ও নাজমুল। গলায় ছুরির পোঁচ মারেন সোহাগ। একপর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতে বুকেও ছুরি চালান সোহাগ। এরপর রবিউলকে ফেলে রেখে তারা অটোরিকশা নিয়ে দ্রুতবেগে পালিয়ে যান। পরে আহত রবিউলকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

পতেঙ্গা মডেল থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, ঘটনার পর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী রবিউলের বাবা। এরপরই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জসহ চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী ও আকবরশাহ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরি ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। জড়িত আরো দুজন এখনো পলাতক রয়েছেন। গ্রেফতারদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!