নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ২, গ্রাম হলো পুরুষশূন্য
নির্বাচনী সহিংসতায় দুইজন নিহতের ঘটনায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলি ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষিনারায়ণপুর-ধলা গ্রাম পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।
এদিকে সাবেক মেম্বার আতিয়ার রহমানের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত ধারালো অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে বল্লম-৫ টি, রামদা ৪ টি, হাসুয়া ৭টি, দা-৩ টি, টেঁটা ২ টি, শাবল ১ টি।
অভিযানে লালন হোসেন, আতিয়ার রহমানের ভাই মহব্বত আলী, লাভলু হক, হিসাব উদ্দীন, আক্তার হোসেন, আক্তারুল ইসলাম, সুমন হোসেন, কিরণ হোসেন, চন্দন আলী, বরিশালের রিদওয়ান হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত সাহাদুল ইসলাম ও জাহারুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। আহতদের মধ্যে জাহারুল ইসলামের স্ত্রী শেফালি খাতুনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন নিহতের বোন রেকসোনা খাতুন।
রেকসোনা খাতুন জানান, ‘আমার ভাই আজমাইন হোসেন টুটুল পশ্চিমপাড়া এলাকায় ভোট চাইতে গেছিলেন। ভোট চেয়ে আসার সময় প্রতিপক্ষ মেম্বার প্রার্থী আতিয়ার রহমানসহ তার ভাই মহব্বত আলীর নেতৃত্বে আরো কয়েকজন টুটুলকে ধরে নিয়ে মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়। এ সময় তারা আজমাইন হোসেন টুটুলকে কুপিয়ে আহত করেন। খবর পেয়ে অপর ভাই সাহাদুল ইসলাম ও জাহারুল ইসলাম তাকে বাঁচাতে ছুটে যায়। সেখানেই জাহারুল ইসলাম ও সাহাদুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। তাদের উদ্ধার করতে গেলে আরো ১৫-২০ জনকে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।’
রেকসোনা খাতুন আরো জানান, ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই মাইলমারী গ্রামের রাস্তার ওপর রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অপর ভাই এনামুল ইসলাম নইলুকে। ২০০৯ সালে অপর ভাই সেন্টু হোসেনকে শালিস বৈঠক চলাকালে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মেম্বার প্রার্থী হলে আজমাইন হোসেন টুটুলকেও হত্যা করার আগাম হুমকি দেয় আতিয়ার রহমান।
গাংনী থানার ওসি বজলুর রহমান জানান, গ্রাম এখন শান্ত রয়েছে। গ্রামের মধ্যে আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ঘাতকদের আটক করতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে।