ঢাকা,  রোববার   ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

কর্মচঞ্চল আখাউড়া স্থলবন্দর

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:০৩, ৩১ আগস্ট ২০২১
কর্মচঞ্চল আখাউড়া স্থলবন্দর
আখাউড়া স্থলবন্দরের ট্রাক স্ট্যান্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে দিয়ে গম, পেঁয়াজ ও আদা আমদানি শুরু হয়েছে। এতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আমদানি-রফতানিকারক, শ্রমিক-কর্মচারী সবার মাঝে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য।

করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন কাজ ছিল না অধিকাংশ শ্রমিকের। নতুন করে কর্মযজ্ঞ শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, আমদানিকৃত পণ্য আনলোড ও রফতানিযোগ্য পণ্য ট্রাকে লোড করছে দেড় শতাধিক শ্রমিক। আমদানি-রফতানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বন্দরের কর্মকর্তারাও ব্যস্ত নিজেদের কাজে। এ যেন আখাউড়া স্থলবন্দরের চিরচেনা রূপ। দীর্ঘদিন পর পুরোনো রূপে ফিরে এসেছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ স্থলবন্দর।

১৯৯৪ সালে আখাউড়া স্থলবন্দর চালু হয়। ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়সহ সাতটি রাজ্যে ঢোকার অন্যতম এ প্রবেশদ্বার দিয়ে হিমায়িত মাছ, শুঁটকি, সিমেন্ট, সয়াবিন তেল, প্লাস্টিক সামগ্রী, পাথরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্তত ৪২টি পণ্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে রফতানি হয়। আবার ভারত থেকে আমদানি করা হয় আদা, মরিচ, পেঁয়াজ, ফল, গবাদিপশু, চুনাপাথর, কয়লা, জিরা, কাগজ, চকলেটসহ অনেক পণ্য। আগে আমদানির চেয়ে রফতানি বেশি হতো। তবে বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে আমদানিতে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ৮ আগস্ট এ বন্দর দিয়ে প্রথমবারের মতো গম আমদানি হয়। ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ৮ হাজার ৭২ দশমিক ৩৬ মেট্রিক টন গম আমদানি হয়েছে। গমের পর আমদানি শুরু হয়েছে পেঁয়াজ ও আদা।

২০২০-২০২১ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ৬৯৭ কোটি ৭০ লাখ এক হাজার ৭৫৮ টাকার পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে। আমদানি হয়েছে এক কোটি ৯৯ লাখ দুই হাজার ২১৮ টাকার পণ্য। রাজস্ব আয় ৩২ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৮ টাকা। বন্দর মাসুল আদায় হয়েছে ৩৬ লাখ ৫৭ হাজার ৭২২ টাকা।

শ্রমিক রাসেল মিয়া, বাবু ও মোর্শেদ মিয়া জানান, অনেকদিন কাজ না থাকায় তারা বেকার ছিলেন। বর্তমানে কাজের সুযোগ পাওয়ায় সব শ্রমিক খুব খুশি। এ বন্দর দিয়ে নিয়মিত পণ্য আমদানি-রফতানি হলে আরো বেশি শ্রমিক কাজ পাবেন।

স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বলেন, গম ও পেঁয়াজ আমদানির ফলে দেড় শতাধিক বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হচ্ছেন। দেশের অন্যান্য বন্দরের মতো এ বন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমোদন পেলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।

আখাউড়া স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্থলবন্দর বাংলাদেশ সরকারের একটি অন্যতম আয়ের খাত। আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাস্টমস রাজস্ব আয় করছে, বন্দরের মাসুল আদায় হচ্ছে। এ বন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি হলে কর্মচাঞ্চল্য আরো বৃদ্ধি পাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!