ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

এক মিনিটে দুই ডোজ করোনা টিকা পেলেন মুদি দোকানী 

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:০৯, ২৬ আগস্ট ২০২১
এক মিনিটে দুই ডোজ করোনা টিকা পেলেন মুদি দোকানী 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এক মিনিটের ব্যবধানে এক মুদি দোকানীকে দুই ডোজ করোনা টিকা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনা ঝড়। এমনই অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে। 

স্বাস্থ্য কর্মীদের উদাসীনতায় ক্ষণিকের ব্যবধানে দুই দফা টিকা নিলো জজ মিয়া এক মুদি দোকানী। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  টিকা নিতে যান জজ মিয়া। এ সময় এক মিনিটের ব্যবধানে তাকে দুটি টিকা দেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) আলমগির হোসেন। 

জজ মিয়া মোহনগঞ্জ পৌরশহরের আল মবিন রোডের বাসিন্দা। 

জজ মিয়ার বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার  দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন ভবনে টিকা নিতে যাই। টিকা পুশকারী আলমগির হোসেন প্রথমে আমার ডান হাতে একটি টিকা পুশ করেন। এরপর আলমগির টিকার কাগজ দেখতে চান। কাগজপত্র দেখানোর পর ডান হাতের একই স্থানে তিনি আরেকটি টিকা পুশ করেন। 

জজ মিয়া আরো বলেন, দুটি টিকা গ্রহণ করার বিষয়টি নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ভুগছিলাম। এতে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে কিনা তা জানতে হাসপাতালের টিএইচও নূর মোহাম্মদ শামছুল আলমের কাছে যাই। 

তবে তিনি আমাকে কোন ধরনের পরামর্শ না দিয়ে উল্টো আমার প্রতি রেগে গিয়ে বলেন, এই টিকা এন্টিভাইরাস। এতে কোন সমস্যা নেই। তবে আমাকে ২৪ ঘণ্টা অবজারভেশনে রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

জজ মিয়া বলেন,  টিকা নেয়ার পর বিকেল থেকেই আমি ভীষণ জ্বর ও মাথা ব্যথায় ভুগছি। ২৪ ঘণ্টা আমাকে অবজারভেশনে রাখার কথা থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার কোনো খোঁজ খবর নেয়নি। এতে করে ভীষণ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। জানি না কি হয়। 

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর মোহাম্মদ শামছুল আলমকে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

ইউএনও ছাব্বির আহম্মেদ আকুঞ্জি বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়ে কথা বলেছি। 

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিয়া বলেন, টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও টিকা গ্রহণকারীসহ সবাইকেই সতর্ক থাকা উচিত। এমনটা হলে টিকা গ্রহণকারীকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার কথা। তবে আমি এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবো।

তিনি আরো বলেন, দেশের আরও কয়েকটি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছিল। তাদের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। জজ মিয়ার বেলায়ও তেমন কোন সমস্যা হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!