ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

কমলগঞ্জে বিধবার বাড়ির রাস্তা কেটে অবরুদ্ধ

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ২৫ আগস্ট ২০২১
কমলগঞ্জে বিধবার বাড়ির রাস্তা কেটে অবরুদ্ধ
বিধবার বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা কেটে জোরপূর্বক দখল করে অবরুদ্ধ করেছে প্রতিবেশীরা। 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আদমপুর ইউপির কাটাবিল গ্রামের বিধবার বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা কেটে জোরপূর্বক দখল করে অবরুদ্ধ করেছে প্রতিবেশীরা। 

বিষয়টি প্রশাসন ও সাংবাদিকদের অবগত করার কারণে রাতে বিধবা নারীর বাড়ি থেকে ১০টি গাছ কেটে বৃদ্ধাকে নির্যাতন করেছে প্রতিবেশী সন্ত্রাসীরা। আহত বিধবাকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সুবেদা বেগমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, ২৩ আগস্ট রাতে কাটাবিল গ্রামের বিধবা সুবেদা বেগমের বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তাটি কেটে জমির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় প্রতিবেশী মদরিছ মিয়ার ছেলে ইদ্রিছ মিয়াসহ কতিপয় সন্ত্রাসীরা। তারা বিধবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা কেটে কলাগাছ লাগিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ফলে সুবেদা বেগম বাড়ির ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। 

মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে বিধবা নারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করায় রাতেই বিধবার বাড়িতে লাগানো কাঁঠাল, পেয়ারা ও আমের ১০টি গাছ কেটে ফেলে। গাছ কাটতে বাধা দিলে সুবেদা বেগমের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। 

কমলগঞ্জ উপজেলার কাঠাবিল গ্রামে দরিদ্র বিধবার রাস্তা কেটে কলাগাছ লাগিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ

স্থানীয়রা বিধবা নারীকে উদ্ধার করে রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

স্থানীয়রা আরো জানান, প্রতিবেশি ইদ্রিস আলী ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা মিলে বিধবা সুবেদা বেগমের বাড়ির রাস্তা কেটে কলাগাছ লাগিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। ঘটনায় বাড়ির মালিক সুবেদা বেগম ইউএনও ও থানা পুলিশের সহযোগীতা কামনা করেন। 

সুবেদা বেগম বলেন, প্রায় ৬ মাস থেকে প্রতিবেশি ইদ্রিছ আলী ও তার সহযোগীরা আমাকে বাড়ি ছাড়া করার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে। সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত কিছু জমি ইদ্রিছ আলী ভোগদখল করে আসছেন। এর আগে বাড়ির প্রবেশ পথের রাস্তাটি কেটে পার্শ্ববর্তী খাস জমিতে মিশিয়ে দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে রাস্তা বন্ধের ব্যাপারে আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও কমলগঞ্জ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ এসে রাস্তা খুলে দেন। তার পরিবার চলাচলের সুযোগ পান। কয়েকদিন চলাচল করার পর আবারো গত সোমবার রাতের আঁধারে চলাচলের রাস্তায় কলাগাছ লাগিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। সাংবাদিকরা আসায় মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয় দফা বাড়ির ১০টি গাছ কেটে ফেলে। এতে বাধা দিলে আমাকে মারধর ও নির্যাতন করে। 

বর্তমানে বিধবা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ঘটনায় থানায় মামলা দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। বিধবা নারীর রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে অভিযুক্ত ইদ্রিছ আলীকে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রী আখারুন বেগম বলেন, এটি রাস্তা নয়, আমাদের জমিতে কলাগাছ রোপণ করেছি। 

কমলগঞ্জের ইউএনও আশেকুল হক বলেন, শিগগিরই বিধবার রাস্তা উদ্ধার করে দেওয়া হবে। নির্যাতনের বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান বলেন, ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে এবং আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!