৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদ পরিণত হলো বটগাছে
বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ৪০০ বছরের একটি পুরাতন ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের সন্ধান পাওয়া গেছে। মসজিদটি বর্তমানে বটগাছে রুপান্তরিত হয়েছে। নামাজ পড়ার মতো অবস্থা না থাকলেও এলাকাবাসী মসজিদটিকে ঘিরে ঈদগাঁ মাঠ বানিয়েছেন।
উপজেলার বোরতা ও মালঞ্চা ইউপির সিন্ধুরাইল গ্রামের মানুষ প্রতি বছর দুই ঈদের নামাজ আদায় করেন। মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসছেন। এছাড়া মসজিদটির আশ পাশে কয়েকটি কবর রয়েছে যার দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১২ ফুট। এলাকাবাসী মসজিদটি সংস্কার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং কাহালু উপজেলা সদর থেকে সাড়ে ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে সদর ইউপির বোরতা গ্রামে মসজিদটি অবস্থিত।
স্থানীয়রা জানান, ৫০ বছর আগে এখানে ঝোপঝাড়ে ভরা ছিলো। বাহির থেকে শুধু বড় একটি বটগাছটিই দেখা যেতো। বাপ-দাদারা বলতো এর ভেতরে একটি মসজিদ আছে। পরে এলাকাবাসী উদ্যোগ নিয়ে ঝোপঝাড় কেটে পরিষ্কার করলে দেখা মেলে পুরাতন এই মসজিদটির। পুরোনো মসজিদটির দেয়াল এক ধরনের ছোট ছোট ইট গাঁথা আছে চুন-সুরকি দিয়ে। বটগাছটির শিকর দিয়ে ছেয়ে গেছে পুরো মসজিদটি। তিনটি মিনারের দুটি ঠিক থাকলেও একটি নষ্ট হয়ে গেছে। ভেতরে ঢুকলে দেখা মেলে কিছু রঙ্গিন আল্পনার।
পুরোনো হওয়ায় এখানে নামাজ পড়ার আর পরিবেশ নেই। তবে এটিকে কেন্দ্র করে ২৩ শতক জায়গার ওপর ঈদগাহ মাঠ বানানো হয়েছে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দুটি নামাজে দূরদূরান্ত থেকে মুসল্লিও আসেন এখানে। তবে মসজিদের সামনের ফাঁকা জায়গায় অনেকেই নামাজ আদায় করেন।
মসজিদটির দৈর্ঘ্য ২৪ ফুট ও প্রস্ত ১২ ফুট। ইমাম দাঁড়ানো মিম্বরটি প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। ৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ২ ইঞ্চি প্রস্তের এক ধরনের ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মসজিদটি। এটির আশপাশে মাটি খুঁড়লে বেরিয়ে আসে পুরোনো মাটির কলস, পাতিল, পানি রাখার বড় পাত্রসহ নানা ধরনের সামগ্রী।
স্থানীয়রা জানান, মসজিদের পাশের পুকুরে অনেক মাছ দেখা যায় কিন্তু পানি সেচের পর সেখানে আর কোনো মাছ পাওয়া যায় না। আবার এখান থেকে গাছের ডাল কিংবা মসজিদের কোনো ভাঙা ইটের টুকরো কিছুই নিয়ে যাওয়া যায় না।
বোরতা গ্রামের বাসিন্দা লিলু জানান, আমার জ্ঞান হওয়ার পর থেকে ওই মসজিদ দেখে আসছি। আমার বাবা বলেছেন, ছোট থেকে এই মসজিদ দেখে আসছি।
মসজিদটি দেখার জন্য অনেক মানুষ আসে। কিন্তু মসজিদে আসার রাস্তাটি কাঁচা হওয়ায় মানুষ যানবাহন ব্যবহার করতে পারে না। তাদেরকে হেঁটে আসতে হয়।
কাহালু সদর ইউপি চেয়ারম্যান পিএম বেল্লাল হোসেন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করার মাধ্যমে এটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে দেখতে আসা পর্যটকরা জানান, এমন একটি ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সংরক্ষণ ও সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।
কাহালুর ইউএনও মো. মাসুদুর রহমান বলেন, অতি দ্রুত জায়গাটি পরিদর্শন করে মসজিদটি সংরক্ষণ ও সংস্কার করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা শুরু করা হবে।
বগুড়ায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিভিন্ন ঐতিহ্যের তালিকায় এই মসজিদটি নিয়ে সংরক্ষণ ও সংস্কার করে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর এই মসজিদটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
বগুড়া প্রত্নতত্নত্ত্ব অধিদফতরের উপপরিচালক নাহিদ সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মসজিদ পরিদর্শন করে সংরক্ষণের অবস্থা থাকলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।